নাটক

আমি চাই, দর্শক আমার অভিনয় নিয়ে মন্তব্য করুক : তিশা

ঢাকা, ১৭ মে – এই ঈদের কাজ নিয়ে তেমন কোন পরিকল্পনা বা প্রত্যাশা কোনটাই ছিল না তানজিন তিশার। বাবা মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। নিজেকে একটু শক্ত করতে সময় নিয়েছিলেন তারপর পরিচালকদের অনুরোধে ঈদের আগে বেশ কিছু কাজে অংশ নেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ তারকা।

তবে প্রত্যাশা না করলেও এই ঈদে প্রচারে আসা তিশা অভিনীত বেশ কিছু নাটক রয়েছে আলোচনায়। তারমধ্যে ভিকি জাহেদ পরিচালিত ‘চোখ’, রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত ‘সাইলেন্স’ অন্যতম। এ দুটি নাটকে অভিনয় দিয়ে দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিশা। নিজস্ব বলয় ভেঙে নিজেকে এবার যেন ভিন্নমাত্রায় হাজির করেছেন তিনি যার কারণে দর্শকমহলে তুমুল প্রশংসা পাচ্ছেন। এছাড়াও মহিদুল মহিমের ‘লাভ ট্রিপ’, জাকারিয়া সৌখিনের ‘ওয়েডিং ক্রাশ’, শিহাব শাহীনের ‘হাফ চান্স’, সাগর জাহানের ‘পুকুরে ভাসা সংসার’ ও ‘চিত্রা তার অপেক্ষায়’ নাটকগুলো থেকেই বেশ ভালো দর্শক সাড়া ও পজেটিভ মন্তব্য পাচ্ছেন।

‘চোখ’ নাটকটি নিয়ে ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে শাকিল খান নামে একজন লিখেন, আমার দেখা এবার ঈদে বেস্ট ৩ টা নাটকের মধ্যে চোখ নাটকটা থাকবে। অসাধারণ অভিনয় তানজিন তিশা এবং তৌসিফ ভাই জাস্ট ফাটিয়ে দিছেন।

আরেকজন লিখেন, এই নাটকের প্রাণ তানজিন তিশার আউটস্ট্যান্ডিং অভিনয়! গল্প ঠিকঠাক ছিলো! তৌসিফ ও ভালো অভিনয় করেছে বাট ভূতের পার্টটা মাঝেমধ্যে ফানি মনে হয়েছে! যাইহোক, সবমিলিয়ে ভালো একটি কাজ!

সোহানা শারমীন সাথী নামে একজন লিখেন, তানজিন তিশা কোন থিয়েটার থেকে না এসেও যে এতো ভাল অভিনয় করে তা বলার বাহিরে। আমার প্রিয় একজন অভিনেত্রী।

‘সাইলেন্স’ নাটক নিয়ে একজন মন্তব্য করে, ঈদ শ্রেষ্ঠ নাটক উপহার দিয়েছে তানজিন তিশা-তৌসিফ মাহবুব। অনেক কিছু শেখার আছে এই নাটকের মধ্যে। যার মেমোরি আছে সে বুঝবে আর মেমোরি লস সে বুঝবে না।

অর্নব রাকিব লিখেন, এ ঈদের সেরা নাটক। পুরাই অস্থির লাগলো।

ঈদের বিরতি শেষে আরও দুইদিন আগেই একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। এরপর গত রোববার একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করেন। শুটিং করতে গিয়ে হাতে মারাত্মক চোট পান তিনি। এখন বাসাতে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।

তানজিন তিশা বলেন, রাতেও পুরো হাত প্রচন্ড ব্যাথা করছিলো, সে ব্যাথা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সকাল থেকে এখন কিছুটা ভালো অনুভব করছি।

ঈদের কাজগুলো থেকে দর্শক সাড়া প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘এবার ঈদের আগে কাজ নিয়ে তেমন কোন পরিকল্পনা করতে পারিনি। ঈদের আগে কয়েকটা কাজ করেছি, আর বেশিরভাগ কাজই আগে করা। যেহেতু এবার পরিকল্পনা ছিল না তাই কাজ নিয়ে তেমন কোন প্রত্যাশাও ছিল না। তারপরও আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আমার চরিত্রগুলোকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার। তারপরও দর্শকদের এত এত সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি যেটা সত্যি অবাক করার মত। অনেক পজেটিভ মন্তব্য পেয়েছি। অনেকগুলো কাজ নিয়ে দর্শক নিয়ে ভালো ভালো মন্তব্য করছেন, আমি কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এবং ফারহানের ‘ওয়েডিং ক্রাশ’ নাটকটি দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছেন। আমার কারও সঙ্গেই কাজ করতে কোন সমস্যা নেই। আমি সবার সঙ্গেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু প্রথমদিকে একটু চিন্তিত ছিলাম যে, দর্শকরা স্ক্রিনে এই জুটিটাকে কতটুকু গ্রহণ করবে! অনেকেই পজেটিভ মন্তব্য করেছেন আবার অনেকেই নেগেটিভ। মাত্র দুইদিনেই ৩০ লাখেরও বেশি দর্শক কাজটি দেখেছেন। যেটা খুবই পজেটিভ দিক, আমার জন্য অবশ্যই একটা ভালো রেসপন্স।’

যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমার একটাই উদ্দেশ্যে, দর্শকদের কাছ থেকে আমার অভিনয় নিয়ে মন্তব্য শোনা। অভিনয় কতটুকু ভালো করছি বা কেমন করছি, সেসব নিয়ে মন্তব্য শুনতে চাই। অভিনয়ের ব্যাপারটা কিন্তু আসলে স্টাডির মতো। যতই দিন যাচ্ছে ততই আমরা শিখছি। যখন আমি অভিনয় নিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি তখন আমার দর্শকরা আমাকে সাপোর্ট করছে, আর তখনই কিন্তু আমার অভিনয়ের স্বার্থকতা খুঁজে পাই।’

এম এস, ১৭ মে

Back to top button