সাতক্ষীরা

অশনির প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি , আতঙ্কে উপকূলবাসী

সাতক্ষীরা, ১০ মে – বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে দুপুর থেকে সাতক্ষীরায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মাঝে মধ্যে হালকা ও মাঝারী ধরণের বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বইছে। সেইসাথে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, চুনা, রাইমঙ্গলসহ সকল নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ ও ২ এর অধীনে ৪৪টি পয়েন্টের সাড়ে ৮শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপকূলবাসী।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ও জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

তিনি জানান, জেলার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় ২৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ পর্যাপ্ত সুপেয় পানি। এছাড়া উদ্ধার তৎপরতার জন্য ২ হাজার ৯৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ৮৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ফিসিং বোট এবং সকল ধরণের মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপদে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরার আবহায়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনি সুন্দরবন থেকে ১ হাজার কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে। সেটি ক্রমান্বয়ে উত্তর দিক থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত আনতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বাংলাদেশের অগ্রভাবে প্রবেশ করছে। তাতে করে যে কোনো সময় ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, আগামীকাল বুধবার দেশের উপকূলীয় তিন বিভাগ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় এই তিন বিভাগে আগামী তিনদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী (২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটার বা এর বেশি) বর্ষণ হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সমুদ্রে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১০ মে ২০২২

Back to top button