দক্ষিণ এশিয়া

প্রহসনে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের চাঁদ দেখা কমিটি: ডন

ইসলামাবাদ, ০৪ মে – ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক পাকিস্তানে একটি বাৎসরিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে বাকি মুসলিম বিশ্বের মতো চাঁদের উপস্থিতি যাচাই করার অনুশীলন অতটা সরল নয়। প্রতি বছরই সরকারের রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি (চাঁদ দেখা কমিটি) ও পেশোয়ারের কাসিম আলী খান মসজিদ-ভিত্তিক বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়।

গত রোববার (১ মে) পাকিস্তানের চাঁদ দেখা কমিটি যখন সিদ্ধান্ত নেয়, দেশটিতে মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে, তখন পেশোয়ারের মুফতি শাহাবুদ্দিন পোপালজাই বলেন, ঈদ হবে সোমবার। মুফতি শাহাবুদ্দিনের এই ঘোষণা রোববার চাঁদ না দেখতে পাওয়ার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মতামতের পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্তেরও বিপরীত।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, পিটিআই’র (ইমরান খানের দল) নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখওয়া সরকার কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা উপেক্ষা করে সোমবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ধর্মীয় এই অনুষ্ঠান ঘিরে বার্ষিক সংকট নতুন রূপ পায়।

রোববার ঈদের চাঁদ দেখা যাবে না, আবহাওয়া বিভাগের হিসাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল চাঁদ দেখা কমিটি। পিটিআই নিজেও যখন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় ছিল, তখন এ ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলোকে সমর্থন করেছিল এবং সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী চাঁদ দেখার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পক্ষে থাকায় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।

এখন খাইবার পাখতুনখওয়ার পিটিআই প্রশাসন নিজেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও ঐকমত্যের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে ঐকমত্য ও বিজ্ঞানের প্রতি অবহেলা এবং ধর্মীয় অস্থিরতা চাঁদ দেখার অনুশীলনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দেশটিতে এখন বিভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।

যুক্তিবাদী পণ্ডিতদের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে অবশ্যই চাঁদ দেখার ধর্মীয় কর্তব্যকে সমর্থন করার জন্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়ে এই অনুশীলনের অপব্যবহার করতে পারে না। এর বদলে তাদের উচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মতামত গ্রহণ করা।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/০৪ মে ২০২২

Back to top button