ফুটবল

ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুল

প্রথম ম্যাচেই নিজেদের মাঠে ২-০ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল লিভারপুল। দ্বিতীয় ম্যাচে ভিয়া রিয়াল যদি বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারে, তাহলে হোঁচট খাওয়ার কোনোই সম্ভাবনা ছিল না মোহাম্মদ সালাহদের।

তবে ঘরের মাঠে সত্যি সত্যি অলরেডদের কিছুটা চমকে দিতে সক্ষম হয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়াল। শুরুতেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা।

কিন্তু লিভারপুলের মত বড় দলের সামনে খেই ধরে রাখতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ১২ মিনিটের ঝড়ে উল্টো ৩ গোল হজম করে বসতে হয় তাদের। আর শেষ ৫ মিনিট তো খেলতে হয় ১০জনকে নিয়ে।

এমনই ঘটন-অঘটনপূর্ণ ম্যাচে ভিয়াররিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে, দুই লেগ মিলে ৫-২ গোলে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।

২০১৮ এবং ২০১৯ সালে টানা দু’বার ফাইনালে ওঠার পর দুই বছর বিরতি দিয়ে আবারও ফাইনালে উঠলো ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ম্যানসিটির। আজ রাতেই নির্ধারণ হয়ে যাবে, ফাইনালে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে।

ভিয়ারিয়ালের মাঠে খেলতে গিয়ে প্রথমার্ধটা খুবই বাজে কেটেছে লিভারপুলের। যেখানে প্রতিপক্ষের জাল লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা, সেখানে ভিয়ারিয়াল ২টি গোল দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বৌলায়ে দিয়া গোল করে এগিয়ে দেন ভিয়ারিয়ালকে। ৪১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ফ্রান্সিস কোকুয়েলিন। দুই লেগ মিলিয়ে এ সময় ভিয়ারিয়াল আর লিভারপুল ২-২ গোলের সমতায়।

এ পরিস্থিতিতে ম্যাচ শেষ হলে নিশ্চিত খেলা গড়াতো অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে। কিন্তু সেটা আর হতে দিলেন না ফ্যাবিনহো, লুইজ ডিয়াজ এবং সাদিও মানে। ৬২ থেকে ৭৪- এই ১২ মিনিটে ৩ গোল আদায় করে লিভারপুলই উঠে গেলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিয়েগো জোতার পরিবর্তে কলম্বিয়ান ফুটবলার লুইজ ডিয়াজকে মাঠে নামান কোচ ক্লপ। তাতেই খেলার মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। ৬২ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর কাছ থেকে বল পেয়ে জোরালো শট নেন ফ্যাবিনহো। ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক জার্নিমো রুলি চেষ্টা করেও বল থামাতে পারেননি।

পরিবর্তি খেলোয়াড় ডিয়াজই ছিলেন পরের গোলের নায়ক। ৬৭ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড ক্রস করলে বল পেয়ে যান ডিয়াজ। রুলির পায়ের ফাঁক গলে বলকে তিনি জড়িয়ে দেন ভিয়ারিয়ালের জালে। ৭৪ মিনিটে শেষ গোলটি করেন সাদিও মানে।

ম্যাচ শেষে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড বলেন, ‘আমরা কখনোই চাইনি খুব সহজ করে সেমির বাধা পার হতে। এই ম্যাচটা ছিল আমাদের জন্য কঠিন। বিশেষ করে প্রথমার্ধ। অনেক সময় সত্যি সত্যি আপনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। তারা ম্যাচটা দারুণভাবে শুরু করেছিল এবং শুরুতেই গোল করে ফেলেছিল। তাদের নিজেদের পরিকল্পনামতই এগুচ্ছিল ম্যাচটি। তবে, শেষ ম্যাচটা আমরা নিজেদের মত করে ম্যাচটা শেষ করতে পেরেছি।’

সূত্র : জাগো নিউজ
এম এস, ০৪ মে

Back to top button