ক্রিকেট

মুশফিকের ফর্ম নেই, তবে দুশ্চিন্তাও নেই

ঢাকা, ০২ মে – মুশফিকুর রহিমের পরিশ্রমের খবর জানেন না এমন ক্রিকেটপ্রেমী খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবার আগে অনুশীলনে নামা, সবার শেষে অনুশীলন শেষ করার বহু ঘটনা রয়েছে তার।

এমনও ঘটনা আছে, বাড়তি অনুশীলনের জন্য মুশফিক টিম বাসে না এসে ঘণ্টা দুয়েক আগে মাঠে হাজির। ব্যক্তিগত অনুশীলন শেষে তিনি দলে যোগ দেন। আবার ফেরার সময় তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে টিম বাসও!

আবার জাতীয় দলের সূচি থাকুক বা না থাকুক, মুশফিক মাঠে থাকেন। অনুশীলনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন। ফিটনেস নিয়ে প্রচুর কাজ করেন। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট গ্রাউন্ড শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামই যেন ঘরবাড়ি মুশফিকের!

পরিশ্রম, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, উদ্যম, ন্যায়নিষ্ঠা সবই মুশফিকের বিশেষণ। তিলে তিলে গড়ে তোলা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে ধ্রুবতারার জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। কিন্তু সেই আলোয় এখন ঔজ্জ্বলতা কমেছে। ব্যাটে নেই আগের ধার। তাতে বাংলাদেশের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে বাড়ছে দুঃশ্চিন্তা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ডানহাতি ব্যাটসম্যান দুই টেস্টে চার ইনিংসে পেয়েছেন মাত্র এক ফিফটি। তিনটিতে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতেও পারেননি। ফিফটি ছোঁয়া একমাত্র ইনিংসটিতেই মুশফিক নিজের উইকেট রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ‘আত্মাহুতি’ দিয়েছেন। এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই ইনিংসে তার রান ছিল ৯ ও ১১।

প্রোটিয়াদের মাটিতে রান না পাওয়া মুশফিকের ব্যাট হাসেনি ঢাকা লিগেও। চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডির হয়ে চার ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮৭ রান। রান না পাওয়ার সঙ্গে মুশফিকের আউটের ধরনগুলোও ছিল দৃষ্টিকটু। স্পিনের বিপক্ষে বেশ সাবলীল মুশফিক চার ইনিংসে তিনবারই আউট হয়েছেন স্পিনে। শেষ ম্যাচে উইকেট দিয়েছেন মাশরাফিকে।

৩৫ ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা মুশফিক ক্যারিয়ারে সাদামাটা পারফরম্যান্স অনেকবারই করেছেন। কিন্তু তার এমন রান খরা ছিল না কখনোই। তার ক্যারিয়ারের সূচক বরাবরই ছিল স্থিতিশীল। তার ব্যাটে রান নেই বলে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন তা লুকাতে চেয়েও পারলেন না, ‘মুশফিক আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং স্তম্ভ। তার থেকে রান না পাওয়া দুঃশ্চিন্তা তো অবশ্যই।’ তবে মুশফিকের ওপর তার অগাধ বিশ্বাস, ‘তবে ও যে ক্যালিবারের ব্যাটসম্যান তাতে যে কোনো সময়ই রান পেয়ে যাবে। একটা ইনিংস পুরোপুরি পাল্টে দেবে তাকে।’

প্রত্যেক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে উত্থানপতন থাকে। কখনো স্রোতের অনুকূলে সাঁতার কাঁটতে হয়। কখনো স্রোতের প্রতিকূলে। বিরুদ্ধ সময়ে মুশফিকের সব সময়কার ভরসা শৈশব গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রিয় ফাহিম স্যারের কাছে ফিরে মুশফিক শুধরে ছিলেন নিজের ভুল। ঘষামাঝায় হয়েছিলেন পিকচার পারফেক্ট। কিন্তু খারাপ অবস্থা আসতে সময় নেইনি। মুশফিকও সেই সময়টা এখন পার করছেন।

এটাই ‘ক্রিকেট সাইকেল’ বলে ব্যাখ্যা করলেন নাজমুল আবেদীন, ‘মানুষের জীবন এবং ক্রিকেট একই রকম। উঠা নামা থাকবে। কখনো সাফল্য আসবে। কখনো আসবে না। কখনো খুব ভালো সময় যাবে। আবার কখনো খারাপ সময় যাবে। এই সময়টায় আপনি নিজে কতটা স্থির থেকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন সেটাই মূল কাজ। মুশফিকের উচিত হবে নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এতোদিন যে কাজগুলো করেছে সেগুলো করে যাওয়া।’

মুশফিকের ফর্ম নিয়ে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল উদ্বিগ্ন নন তা দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতেই বলেছিলেন, ‘উনাকে (মুশফিক) নিয়ে কোন চিন্তাই করি না। উনি বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান। তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি আছে। উনি অবশ্যই দ্রুত কামব্যাক করবে। আর আমি নিজেকে নিয়েও চিন্তিত নই। আগে কি হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে সামনের ম্যাচে কী হবে সেটার দিকে তাকাচ্ছি।’

সামনে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ অতিথেয়তা দেবে শ্রীলঙ্কাকে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে মুশফিকের প্রয়োজন ৬৮ রান। ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় থাকা এ ব্যাটসম্যান শিগগিরই রানে ফিরে নতুন কীর্তি গড়বেন, সাফল্যে ভাসাবেন এমনটাই চাওয়া সবার।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০২ মে

Back to top button