ইউরোপ

এবার টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জেলেনস্কি

কিয়েভ, ৩০ এপ্রিল – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিজেদের প্রচ্ছদে স্থান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন টাইম। ম্যাগাজিনটি তাদের সর্বশেষ সংস্করণের প্রচ্ছদে জেলেনস্কির একটি ছবি ছাপানোর পাশাপাশি তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির জীবনযাপন ও যুদ্ধপরিস্থিতির মতো কঠিন সময়ে তার নেতৃত্ব নিয়ে টাইমের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি লিখেছেন সিমন শুস্টার। প্রচ্ছদে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একটি সাদাকালো ছবির সঙ্গে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘হাউ জেলেনস্কি লিডস :ইনসাইড দ্য কম্পাউন্ড উইথ দ্য প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হিজ টিম’।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা করার পর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইউক্রেনের সেনারা। সেই প্রতিরোধ ছিল রুশ বাহিনীর ধারণার চেয়েও শক্তিশালী। বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার তিন দিনের মধ্যেই কিয়েভ দখলের পরিকল্পনা ছিল রাশিয়ার। কিন্তু ইউক্রেনীয় সেনাদের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর ইউক্রেনের প্রায় প্রতিটি ফ্রন্টেই নাকানিচুবানি খেয়েছে রুশ সৈন্যরা। যদিও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই এসব স্বীকার করেনি। টাইমের সঙ্গে জেলেনস্কির আলাপচারিতায় এসব ব্যাপারও উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির।

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহে তিনি প্রচণ্ড উদ্বেগ ও অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের দায়িত্বে থাকা জেনারেলদের কাছে ময়দানের হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইতেন। এরপর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার এ সময়ে বদল আনেন তিনি। এরপর থেকে তিনি ঘুম থেকে উঠে সবার আগে সকালের খাওয়া সারেন। খাওয়া শেষে প্রেসিডেন্ট ভবনে নিজের কার্যালয়ে গিয়ে বসেন। তারপর সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

টাইম ম্যাগাজিনকে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন নিয়ে বিশ্বের মনোযোগের ধরন তাকে ততটাই বিরক্ত করে, যতটা ইউক্রেনে রাশিয়ার বোমাবর্ষণে তিনি বিরক্ত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ ইউক্রেনের যুদ্ধ দেখছে। কিন্তু একসময় তারা এটা দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। এরপর তারা আর যুদ্ধ নিয়ে কিছু দেখতে চাচ্ছে না। এসব বাদ দিয়ে তারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তখনও ইউক্রেনে প্রচুর রক্ত ঝরছে।’

যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে প্রেসিডেন্টের ভবন থেকে চুপিসারে বের হয়ে কিয়েভের রাস্তায় রুশ বাহিনীর ধ্বংসলীলা দেখতেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রুশ বাহিনী কিয়েভের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। রুশ বাহিনীর অগ্রগতি দেখে কিয়েভ পতন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করেছিলেন অনেকেই। ওই সময় তাকে হত্যা বা আটক করার পরিকল্পনা করাও অসম্ভব ছিল না রুশ বাহিনীর জন্য। সেই সময় দেশ ছাড়তে জেলেনস্কির জন্য হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জেলেনস্কি তা নাকচ করে দিয়ে ইউক্রেনীয়দের পাশে থেকে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। জেলেনস্কির সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রতিবেদক সিমন শুস্টার বলেন, ইউক্রেনের এ যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে মানসিকভাবে আগের চেয়ে আরও শক্ত, তীক্ষষ্ট করেছে ও ঝুঁকি নিতে শিখিয়েছে।

যুদ্ধের এই দুই মাস ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধকে নানাভাবে সংগঠিত করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট, অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দিয়েছেন এবং দেশের জন্য সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। তার এই দৃঢ় মানসিকতা ও হার না মানা মনোবল এবং যুদ্ধের এতদিন পরও রাশিয়ার আক্রমণের পাল্টা প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে ভীষণভাবে প্রশংসিত করেছে জেলেনস্কিকে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/৩০ এপ্রিল ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language