জাতীয়

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে প্রতিটি লঞ্চ

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল – রাজধানীর সদরঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চ। অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় দুটি লঞ্চকে জরিমানা করা হলেও লঞ্চ থেকে যাত্রী নামানো হয়নি। যেসব লঞ্চ বিকেল ৫টায় ছাড়ার কথা এমন অনেক লঞ্চই দুপুরের আগে যাত্রীবোঝাই হয়ে যায়। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ৫১টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

যদিও আগের দিন বৃহস্পতিবার ১১০টি লঞ্চ ছেড়ে যায়।
সদরঘাটে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। বিকেলের পর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় হয়। এই সুযোগে বেশির ভাগ লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়ে যায়। লঞ্চের কর্মীরা নিজদের রুটের যাত্রীদের ডাকতে থাকেন। আধা ঘণ্টার মধ্যেই বড় বড় লঞ্চ যাত্রীতে বোঝায় হয়ে যাচ্ছে। ফলে কিছু লঞ্চ সময়ের আগেও ঘাট ছেড়েছে।

লঞ্চে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) দেখানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে বিআইডাব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা যায়। ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের যাত্রী রফিক মিয়া জানান, লঞ্চ ছাড়ার ছয় ঘণ্টা আগে এসেও বসার জায়গা পাইনি। অনেকেই কাপড় বিছিয়ে বসার জায়গা ধরে রেখেছেন। অনেক কষ্টে ফাঁকা জায়গা পেয়েছি। এখানে আবার ছাদ নেই। বৃষ্টি হলে পুরো ভিজে যেতে হবে।

রুহুল আমিন যাবেন বরিশালের পয়সারহাট। লঞ্চে জায়গা না পেয়ে পরের লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। রুহুল আমিন বলেন, ‘এত আগে এসেও লঞ্চে উঠতে পারলাম না। বসারই জায়গা নাই। এখন পরের লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি।

পরিবারের অন্য চার সদস্য নিয়ে পটুয়াখালী গ্রামের বাড়ি যাবেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. খাইরুল। তিনি বলেন, ‘এমভিএআর খান লঞ্চের টিকিট নিয়েছি। কিন্তু ঘাটে যে পরিমাণ ভিড়, এখন লঞ্চে উঠতে পারলেই হয়। একা হলে সমস্যা হতো না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে কষ্ট হয়ে যাবে। ‘

তবে লঞ্চ মালিক সমিতির সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ঈদের বাজার হিসেবে আজ শুক্রবার যাত্রীর চাপ কম। আগামীকাল (শনিবার) ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে বিকেল চারটার দিকে ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়াগামী লঞ্চ ফারহান-৫ ও ভোলার চরফ্যাশনের আয়েশাবাগগামী কর্ণফুলী-১২ লঞ্চকে ভ্রাম্যমাণ আদালত যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও লঞ্চের সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) আলমগীর কবির। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের এই সময়ের জন্য ১৫০টিরও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য কোনো লঞ্চ সংকট হবে না।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম ইউ/২৯ এপ্রিল ২০২২

Back to top button