জাতীয়

তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল – কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শিশু-কিশোরদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান পরিবেশ আন্দোলন, মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

থানা ভবন স্থাপনের প্রতিবাদে বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। এরপর মাঠের সীমানা ঘেঁষে ১৪টি দেশীয় গাছ রোপণ করা হয়। পাশাপাশি একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘যারা এখানে খেলে, যারা এ মাঠের প্রকৃত মালিক; তারা এখানে আছে। তারা প্রতিবাদ করছে মাঠ কেন দখল করা হচ্ছে? আমরা সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করছি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যেখানে-সেখানে, যখন খুশি মাঠ নিয়ে নেবেন, পুলিশ যদি এটা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে তাহলে আর মাঠ থাকবে না। আবার বলা হচ্ছে, এখানে যারা খেলত, তারা কলাবাগান মাঠে গিয়ে খেলতে পারবে। কিন্তু কলাবাগান মাঠে তো সব সময় সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরে যাওয়ার অবস্থায় আছি। সেখানে যদি মাঠ দখল হয়ে যায়, তাহলে এ এলাকার নতুন প্রজন্ম কোথায় যাবে? তারা (পুলিশ) বলেছে, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাজউক বলছে জানে না। তাহলে কীভাবে এখানে থানা ভবন নির্মাণ হয়? অবিলম্বে এখানে থানা ভবন নির্মাণ বন্ধ হোক।’

আসকের নির্বাহী কমিটির সাবেক মহাসচিব নূর খান বলেন, ‘আপনারা কয়েক দিন ধরে দেখছেন এখানে দেয়াল তোলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন আন্দোলন শুরু করেছে, নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে, আটক হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমরা কয়েকটি সংগঠন কর্মসূচি পালন করছি।’

উল্লেখ্য, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। এরইমধ্যে গত রোববার আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না মাঠে নির্মাণ কাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করলে তাকে ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

তাদের কলাবাগান থানায় ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়ে দুটি আলাদা বিবৃতি দেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৭ এপ্রিল ২০২২

Back to top button