জাতীয়

বৃহস্পতিবার আসছেন জয়শঙ্কর, শেখ হাসিনার ভারত সফর বছরের দ্বিতীয়ার্ধে

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল – আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

‘এ বছর ভারতে হাসিনা, ঢাকার পথে জয়শঙ্কর’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজোড়া ভূকৌশলগত সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী বলয়কে সংহত রাখার গুরুত্ব বেড়েছে। ঘরোয়া আলোচনায় এমনটাই বলছে ভারতের সাউথ ব্লক। প্রকাশ্যে জানানো হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির গুরুত্ব।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই আবহে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীর কথা হবে মহামারি পরবর্তী বিশ্বে সহযোগিতা নিয়েও।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জয়শঙ্করের ঢাকা সফর শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির জন্যও বটে।

একদিনের ঢাকা সফরকালে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বাংলাদেশ-ভারত চলতি দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা নিয়ে কথা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে নয়াদিল্লিতে ‘ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ কমিটি’র বৈঠক হবে আগামী মে মাসের শেষে। এর পর জুনে গুয়াহাটিতে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগ’। সেখানে পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র এ কে আব্দুল মোমেনের মুখোমুখি বসবেন জয়শঙ্কর।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে আয়োজিত মৈত্রী দিবসের লোগো বাছাই সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে বুধবার যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার কথায়, ‘ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কে সোনালি অধ্যায় চলছে। আমাদের পরিকল্পনা একে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে গত বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যান মোদি। কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরে আসার কথা। গত বছর মার্চে মোদির বাংলাদেশ সফরের পরই দুই দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছিল। সে সময় দেশের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে করোনার টিকা রপ্তানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সাউথ ব্লক। স্বাভাবিকভাবেই, ভারতের থেকে প্রথম টিকা পাওয়ার পর দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষমান বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভের আঁচ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে লাগে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে পণ্য পাঠানোর জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ; অর্থাৎ ভারতীয় পণ্যের যাত্রাপথের বেশ বড় একটা অংশে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা থাকছে। তখন ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য ছিল, ভারত নিয়ে যদি বাংলাদেশের আমজনতার ক্ষোভ থাকে, তা হলে এ সংযোগ-প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শুধু বকেয়া টিকা না দিতে পারার বিষয়টিই নয়। বাংলাদেশের আবেগকে আঘাত করা হয়েছে বলে কখনও ঘরোয়াভাবে, কখনও প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছে ঢাকা। সিএএ-এনআরসি বিতর্কে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে সমবন্ধনীতে জোড়ার বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, সেসব ঝড়-ঝাপটা কাটিয়ে আবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়, শেখ হাসিনার ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে তা আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ২৭ এপ্রিল

Back to top button