জাতীয়

দেশি পাইলট সংকটে বাড়ছে বিদেশি পাইলটের সংখ্যা

চৌধুরী আকবর হোসেন

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল – বর্তমানে দেশি ৩টি এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করছে। আরও ২টি এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় আছে। এসব এয়ারলাইনে যে পরিমাণ পাইলট প্রয়োজন, তা দেশে না থাকায় কাজ করছেন বিদেশি পাইলটরা। দেশীয় অভিজ্ঞ পাইলটের অভাবে সংকটে ভুগছে নতুন করে চালু হতে যাওয়া এয়ারলাইনগুলো। দেশে পাইলট ট্রেনিং অ্যাকাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণ জটিলতাসহ নানা সমস্যা দূর না করা গেলে এ সংকট আরও বাড়বে। ফলে উচ্চ ব্যয়ে বিদেশি পাইলটের ওপর নির্ভর হয়ে পড়বে দেশের এয়ারলাইনগুলো।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের এভিয়েশন খাতে অবকাঠামো উন্নয়ণে নানা উদ্যোগ রয়েছে। তবে পাইলট তৈরির জন্য নেই সরকারি কোনও উদ্যোগ। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমি ৩টি। এর মধ্যে আরিরাং ফ্লাইং স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমি, গ্যালাক্সি ফ্লাইং অ্যাকাডেমির কার্যক্রমও হচ্ছে সীমিত পরিসরে। দেশের পাইলট ট্রেনিং অ্যাকাডেমিগুলো উড়োজাহাজ ও প্রশিক্ষক সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। ব্যয় বেশি হওয়ায় ফ্লাইং অ্যাকাডেমিগুলোতে পড়তে প্রতিষ্ঠানভেদে ৩০-৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। ফলে চাহিদার বিপরিতে সীমিত সংখ্যক পাইলট প্রস্তুত হচ্ছে দেশে।

একজন শিক্ষার্থীকে পাইলট হতে ফ্লাইং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) লাইসেন্স পেতে পরীক্ষা দিতে হয়। পাইলট হতে বয়স ন্যূনতম ১৬ বছর এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হয়। গ্রাউন্ড ও ফ্লাইং প্রশিক্ষণ ও কমপক্ষে ৪০ ঘণ্টা ফ্লাইং করলে একজন শিক্ষার্থী বেবিচকের প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্সের (পিপিএল) জন্য আবেদন করতে পারবেন। পিপিএল লাইসেন্স পাওয়ার পর বেবিচকের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) জন্য আবেদন করা যায়। এ জন্য থাকতে হবে ১৫০ ঘণ্টা উড়ার অভিজ্ঞতা। সময় লাগে দেড় থেকে তিন বছর।

তবে লাইসেন্স পাওয়ার পরই যেকোনও উড়োজাহাজ চালাতে পারবেন না একজন পাইলট। যে ধরনের উড়োজাহাজ চালাবেন, সেই উড়োজাহাজের জন্য সিমুলেটর ট্রেনিং নিতে হয়। সাধারণত যে এয়ারলাইনে চাকরি করেন পাইলটদের সেই এয়ারলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত উড়োজাহাজের জন্য সিমুলেটর ট্রেনিং দেওয়া হয়।

আগামী জুলাই নাগাদ যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। প্রাথমিকভাবে ৪টি উড়োজাহাজ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনটি। ৪টি উড়োজাহাজের জন্য তাদের কমপক্ষে ৪৮ জন পাইলট প্রয়োজন। দেশি পাইলট নিয়ে ‍দুশ্চিন্তায় এয়ারলাইনটি।

এয়ার অ্যাস্ট্রা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বলেন, ‌‘পাইলট সংকট বর্তমানে খুবই তীব্র। দেশে যেভাবে পাইলটের চাহিদা বেড়েছে, সেই অনুপাতে নতুন পাইলট তৈরি হচ্ছে না। আমরা যদি দেশি পাইলট না পাই, তাহলে আমাদের তো বিদেশি পাইলট খুঁজতে হবে। তবে বিদেশি পাইলট নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ নয়।’

বর্তমানে চালু থাকা নভোএয়ারসহ দুটি বেসরকারি বিমানে কমপক্ষে ৪০ জন বিদেশি পাইলট কাজ করছেন। দেশি পাইলটের সংকটের কারণেই উচ্চ ব্যয়ে বিদেশি পাইলটদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এয়ারলাইনগুলোকে। সামনে আরও পাইলট সংকট তৈরি হবে বলে মনে করছে এয়ারলাইনগুলো।

নভোএয়ারের চিফ অব সেফটি ক্যাপ্টেন আশফাক উর রহমান খাঁন বলেন, ‘দেশে এয়ারলাইন্সের সংখ্যা বাড়ছে, ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে পাইলট চাহিদা আরও বাড়বে। সংকট নিরসণে উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও বাড়বে। আমাদের দেশে পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিদেশি পাইলট নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া যেমন জটিল, তেমনি ব্যয়ও বেশি।’

এভিয়েশন খাতে দ্ক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য সরকার প্রতিষ্ঠা করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বলেন, ‘দেশে পাইলট সংকট আছে এটা ঠিক। তবে বিনা প্রয়োজনে বিদেশি পাইলট নিয়োগ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন একজন বিদেশি পাইলট এলেও একটানা দেড় বছরের বেশি কাজ করতে পারবেন না। বাংলাদেশের চেয়ে কম রেটিং এমন দেশ থেকে পাইলট আনা যাবে না।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/২৬ এপ্রিল ২০২২

Back to top button