সম্পর্ক

পরিস্থিতির চাপে বিচ্ছেদ?

 

স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে কখনো কখনো ভুল–বোঝাবুঝি হতে পারে, আবার তা মিটেও যায়। কিন্তু তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে দুজনের সংসারে যদি অন্য কেউ (তৃতীয় পক্ষ) নাক গলানো শুরু করে, তাহলে সামান্য বিষয়ও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি দুজনের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয় এবং তা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে। আবার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের চাপেও বিচ্ছেদের দিকে এগোতে দেখা যায় অনেককে। কিন্তু এ রকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিচ্ছেদ করতে হলে তা মিটিয়ে নতুন করে সংসার করার সুযোগ আইনে রয়েছে।

মনে রাখা দরকার, যদি কোনো স্বামী-স্ত্রী নিজেরা বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক না চান, তবে জোর করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী বা স্ত্রী হয়তো নিজে বিচ্ছেদ চাচ্ছেন না কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্য ভুয়া তালাকের নোটিশ তৈরি করে পাঠান। এ রকম যদি হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধেও আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

যদি পরিস্থিতির শিকার হতেই হয়
স্বামী-স্ত্রীকে যদি পরিস্থিতির চাপে বিচ্ছেদের দিকে এগোতে হয়, তাহলে সবচেয়ে আগে যেটা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া। তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজেদের আগে গুরুত্ব দিতে হবে। দুজনের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি কিংবা মনোমালিন্য হলে নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তা মিটিয়ে নেওয়া দরকার। অন্য কাউকে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাতে দেওয়া উচিত নয়। কোনো পরিস্থিতির চাপে বা শিকার হয়ে বিচ্ছেদ নিতে চাইলেও বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার আগে বারবার ভাবা দরকার। বিশেষ করে সন্তান থাকলে তাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি ভাবতে হবে সবার আগে।

আরও পড়ুন: সহজ কিছু কৌশলে অটুট রাখুন সম্পর্ক

যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা থাকে, তবে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের বিষয়টি প্রাধান্য দিতে হবে। কেউ বাধ্য হয়ে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে দিলে তা প্রত্যাহারের সুযোগও রয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি উদ্ভব হলে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া উচিত। নিজেদের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটালে তা কার্যকর করা যায় না। আর কোনো পরিস্থিতির কারণে যদি বিচ্ছেদ ঘটাতেই হয়, তাহলে তালাকের নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে ইদ্দতকালীন তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ আইনে আছে। তাই বিচলিত না হয়ে আইন অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যেই তালাকটি প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যদি তিন মাস পার হয়ে যায়, তাহলে নিজেরা আবার আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করে নিতে পারেন।

যদি বিচ্ছেদ কার্যকর করতেই হয়, তাহলে নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিচ্ছেদ কার্যকর করতে হবে এবং তা অবশ্যই আইনকানুন মেনেই করতে হবে। নিজেরা সমঝোতার মাধ্যমে তালাক নিতে চাইলে মুসলিম আইন অনুযায়ী খোলা তালাকও সম্পন্ন করতে পারে। তবে যেকোনো উপায়ে তালাক কার্যকর হলেও স্ত্রীর প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে। আর তালাক অবশ্যই নিবন্ধন করে নিতে হবে। যদি তালাক প্রত্যাহার করতে হয়, তাহলে হলফনামা করে তা প্রত্যাহার করে সালিস পরিষদে দাখিল করতে হবে। হিন্দুদের ক্ষেত্রে সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদের কোনো বিধান নেই। তবে দুজনে পৃথক থাকতে পারেন এবং পুনরায় একত্রে বসবাস শুরু করতে পারেন।

এম এন / ০৯ অক্টোবর

Back to top button