দক্ষিণ এশিয়া

নিউমার্কেটে সংঘর্ষ: বিএনপির ১৪ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল – ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ১৪ নেতাকর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. মোস্তফা জামান ও বিচারপতি মো. সেলিমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জামিন পাওয়া নেতাকর্মীরা হলেন- আমীর হোসেন আলমগীর, মিজান, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম সন্টু, শহীদুল ইসলাম শহীদ, জাপানি ফারুক, মিজান ব্যাপারী, আসিফ, রহমত, বিল্লাল, মনির, জুলহাস ও বাবুল।

নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক (নিম্ন) আদালতে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন কেআর খান পাঠান, রোকনুজ্জামান সোজা, গোলাম আক্তার জাকির, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।

কায়সার কামাল জানান, সংঘর্ষের দিন পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিউমার্কেট থানায় বিএনপির ২৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৪ জনের আগাম জামিন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় গত ২৩ এপ্রিল নিউমার্কেট থানা বিএনপির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনের তিনদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) হালদার অর্পিত ঠাকুর রিমান্ড আবেদনে বলেন, গত ১৯ এপ্রিল রাত পৌনে একটা থেকে রাত ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা ৬০০-৭০০ জন ঢাকা কলেজের ছাত্র চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেয়। একই কাজ করে ২০০-৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যবসায়ী ও কর্মচারী। তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে জখম, ভাঙচুর করে।

এর আগে ২২ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

১৮ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী।

ডেলিভারিম্যান নাহিদের নিহতের ঘটনায় বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মুরসালিনের ভাই বাদী হয়ে আরো একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। একটি মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে। দুই মামলাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।

সূত্র : জাগো নিউজ
এম এস, ২৬ এপ্রিল

Back to top button