উত্তর আমেরিকা

দুর্ঘটনার চেয়ে গুলিতে বেশি মরছে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা

ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলির চেয়ে দুর্ঘটনায় বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে কোভিড মহামারী শুরুর বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজার ৩০০ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে বন্দুক হামলা সংশ্লিষ্ট ঘটনায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সুযোগ থাকায় দেশটির ৩২ কোটি নাগরিকের হাতে ৩৯ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠলেও অস্ত্র নির্মাতাদের চাপে তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অপরদিকে মহামারীর মধ্যে বন্দুক সহিংসতা বেড়েছে।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে ১ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু আগের বছরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিগত বছরগুলোতে তরুণ মার্কিনিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল গাড়ি দুর্ঘটনা। এরপর ছিল বন্দুক হামলাজনিত মৃত্যু।

যুক্তরাষ্ট্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমেছে। ২০২০ সালে ১৯ বছরের নিচে আনুমানিক ৩ হাজার ৯০০ মার্কিনির মৃত্যু হয়েছে। ২০২০ সালে বন্দুক সহিসংসতায় সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার ২২২ মার্কিনির মৃত্যু হয়েছে। দুই দশক আগের তুলনায় গত কয়েক বছরে এ মৃত্যু ১৩ শতাংশ বেড়েছে।

সিডিসির গবেষণা অনুযায়ী, শিশু-কিশোরদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সার্বিক প্রাণহানির হার ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে হত্যার পাশাপাশি রয়েছে আত্মহত্যা, অবহেলাজনিত ও অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে গুলিতে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘যে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়, সেই মৃত্যু থেকে আমরা আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছি।’

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে এবং জাতিগত জনসংখ্যা জুড়ে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বন্দুকজনিত মৃত্যুর হার বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিদের মধ্যে এই হার বেশি বেড়েছে।

অল্পবয়সীদের মৃত্যু হার বেড়ে যাওয়ার আরও দুটো কারণ হল- অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক সেবন এবং বিষক্রিয়া। এ দুই কারণে মৃত্যু বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি বছরে এপ্রিলের শুরুতে আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কারণে ২০১৯ সালে ৪৯২ জন তরুণের মৃত্যু হয়। এর পরের বছরই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৪ জনে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৩ এপ্রিল ২০২২

Back to top button