মারিউপোলের বেসামরিকদের ভাগ্য পুতিনের হাতে: মেয়র

কিয়েভ, ২২ এপ্রিল – যুদ্ধবিধ্বস্ত মারিউপোলে আটকে থাকা এক লাখ বেসামরিক নাগরিকের ভাগ্য এখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের গুরুতাবপূর্ণ এই শহরটির মেয়র। তিনি বলেন, মারিউপোলের মানুষের সাথে কী ঘটবে তা তিনি (পুতিন) একাই নির্ধারণ করতে পারেন।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিউপোল রাশিয়া দখলে নেয়ার দাবি করার পরই বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সাক্ষাৎকারে মেয়র আরও বলেছেন, উপগ্রহ থেকে পাওয়া মারিউপোলের একটি গণকবরের ছবি প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার সেনারা নিহতের সংখ্যা লুকাতে মৃতদেহ কবর দিচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মারিউপোলকে মুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন পুতিন। টানা প্রায় দুই মাস অবরুদ্ধ করে রাখার পর ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এই বন্দরনগরী দখলের দাবি করেন তিনি। দুই মাসের এই রুশ অবরোধ ও প্রচণ্ড বোমাবর্ষণে শহরে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। ফলে যেসব বাসিন্দা পালিয়ে যাননি তারা বিদ্যুৎ, গরম বা পানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েন।
ভাদিম বয়চেঙ্কো বলেন, এটি বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, মারিউপোল শহরে এখনও আটকে থাকা মানুষের ভাগ্য কেবল একজন ব্যক্তির হাতে – ভ্লাদিমির পুতিন। এবং এখন থেকে যে সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে তাও তার (পুতিনের) হাতে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের মারিউপোল ‘স্বাধীন’ করার ঘোষণার জবাবে ভাদিম বয়চেঙ্কো বলেন, শহরকে মুক্ত বা স্বাধীন করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না রুশ সেনাদের। পরিকল্পনা ছিল কেবল ধ্বংসের।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই বন্দর শহরের ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ধারণা বয়চেঙ্কো’র।
রাশিয়ার সৈন্যরা এখন মারিউপোল শহরের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের একটি দল আজভস্টাল স্টিল কমপ্লেক্সের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে শত শত বেসামরিক নাগরিকের সাথে অবস্থান করছে।
মেয়র বয়চেঙ্কো বলেন, ‘আজ আমাদের কেবল একটি কথাই বলার আছে, আর সেটি হচ্ছে- আমাদের একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি মারিউপোলের এক লাখ বাসিন্দাকে পুরোপুরি বের হওয়ার সুযোগ দিতে এবং আজভস্টাল ইস্পাত কারখানায় থাকা আমাদের সকল মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ২২ এপ্রিল









