ইউরোপউত্তর আমেরিকা

পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে বসতে চান জাতিসংঘ প্রধান

নিউ ইয়র্ক, ২১ এপ্রিল – ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তিনি আলাদা ভাবে দুদেশের প্রেসিডেন্টের কাছেই তার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

তিনি চান দুদেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। প্রায় দুমাস ধরে দুপক্ষের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, রাশিয়া এবং ইউক্রেনে অবস্থিত জাতিসংঘ মিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন গুতেরেস।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্দেশেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। গুতেরেস চান পুতিন যেন মস্কোতে এবং জেলেনস্কি যেন তাকে কিয়েভে স্বাগত জানান।

দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, এই মহাবিপদ ও ভয়াবহ সময়ে তিনি ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের উপর ভিত্তি করে জন্য দেশগুলোর ভবিষ্যতের জন্য জরুরি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করতে চান।

স্টার সানডে উপলক্ষে চারদিনের যুদ্ধবিরতির আবেদন জানান গুতেরেস। গত মঙ্গলবার অর্থোডক্স খ্রিস্টানের কাছে পবিত্র সপ্তাহকে সামনে রেখে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলোতে মানবিক সহায়তা সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার জন্য এই আহ্বান জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ইউক্রেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। লোকজনের খাদ্য-পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং সেখানে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। দেশটিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের ডনবাসের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মারিউপোলের পূর্ণ দখল নেওয়ার দাবি করেছে রুশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারিউপোল দখলের খবরে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পুতিন। তিনি বলেছেন, মারিউপোল শহরটি ইউক্রেনীয় সেনাদের হাত থেকে ‘স্বাধীন’ করা হয়েছে। ওই অঞ্চলের বৃহত্তম আজোভস্তাল স্টিল প্লান্টেরও দখল নিয়েছে রাশিয়া।

মারিউপোল শহর দখল রাশিয়ার জন্য অন্যতম কৌশলগত বিজয়। পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করতে এটি সহায়তা করবে।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/২১ এপ্রিল ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language