দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তানে সংসদে ডেপুটি স্পিকারকে এমপিদের মারধর

ইসলামাবাদ, ১৭ এপ্রিল – পাকিস্তানের সদ্য-ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আইনপ্রণেতারা দেশটির পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মুহাম্মদ মাজারিকে মারধর করেছেন।

শনিবার পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য শুরু হওয়া অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের আসন গ্রহণের সময় তাকে থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি বোতল ও ফুলের টব ছুড়ে মারেন ইমরানের দলের এমপিরা।

দলত্যাগ করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক এমপিরা মাজারির ওপর চড়াও হন। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, মাজারিকে ইমরানের দলের এমপিরা থাপ্পড় এবং কিল-ঘুষি মারছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।

শনিবার পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা পদ্মফুল নিয়ে আসেন। পিটিআই ত্যাগ করে বিরোধীদের জোটে যোগ দেয়া আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ‌‘লোটা’ ‘লোটা’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর এক পর্যায়ে তারা বিরোধীদের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নেন।

পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা বলেন, তারা দলের ২৪ জন ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট দিতে দেবেন না। ইমরান খানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটের এই সদস্যরা পিটিআই ত্যাগ করে বিরোধীদের জোটে যোগ দিয়েছিলেন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, বিশৃঙ্খলা আর হট্টগোলের পর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলীয় প্রার্থী হামজা শেহবাজ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এই অধিবেশনের শুরুতে ইমরানের দলের এমপিরা ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মুহাম্মদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে পিএমএল-কিউয়ের প্রধান চৌধুরী পারভেজ এলাহীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

৩৭১ আসনে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য ১৮৬ ভোটের দরকার হলেও হামজা শেহবাজ ১৯৭ ভোট পেয়েছেন। ইমরানের দল ছেড়ে আসা এমপিরা ভোট দেওয়ায় হামজা বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ঘিরে পিটিআই-ত্যাগী ২৪ এমপিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একটি হোটেলে রেখেছিল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ। যাতে এই সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কোনো চাপের মুখোমুখি না হন, সে জন্য তাদের হোটেলে রাখা হয়।

এদিকে, পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১৭ এপ্রিল

Back to top button