জাতীয়

ঈমান ধরে টান দিলে বুকে ব্যথা লাগে: মুখ্যসচিব

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল – প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, ঈমানের সঙ্গে কাজ করার পর ঈমান ধরে টান দিলে বুকে ব্যথা লাগে। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি উভয় পক্ষকেই একে অপরের কাছে স্বচ্ছ হতে হবে।

শনিবার দুপুরে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘এক্সপোর্ট চ্যালেঞ্জেস অব বাংলাদেশ আফটার গ্রাজুয়েশন ফর্ম এলডিসি স্ট্যাটাস: অপশনস ফর দি প্রাইভেট সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, সিপিডি বড় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। মাতারবাড়ি, মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জাপানি সংস্থা জাইকার অর্থায়নে। কেনাকাটাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে জাইকা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাহলে জাইকাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সব কাজ করছে রাশিয়া। সেখানকার দুর্নীতিতে কি রাশিয়া জড়িত?

তিনি বলেন, টিআইবি অভিযোগ করেছে প্রতি ডোজ করোনার টিকা কেনায় ৬৯ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের মানে কি? টিআইবির পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে অষ্ট্রেলিয়ান খনন কোম্পানি বিএইচপি। পরিবেশ দূষণের দায়ে এই কোম্পানি বিভিন্ন দেশে কালো তালিকাভুক্ত। একটি কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান আমাদের দুর্নীতিবাজ বলে যাবে, ফাজলামি নাকি? আমরা কি চুরি করে বসে আছি?

আহমদ কায়কাউস বলেন, দেশে দুর্নীতি নেই এ কথা বলা যাবে না। নিম্ন পর্যায়ে কিছু দুর্নীতি হয়। সরকার সেটি সংস্কারের চেষ্টা করছে। তবে ব্যবসায়ীদেরও স্বচ্ছ হতে হবে। সরকার ও বেসরকারি খাত একে অপরের কাছে স্বচ্ছ হলে অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রণামুক্ত হবে। দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ঈমানের সঙ্গে কাজ করছি। এরপরও যদি ঈমান ধরে টান দেন, তাহলে বুকে ব্যথা পাই।

এসময় তিনি এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান। এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার প্রধান আহমদ কায়কাউস।

সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অল্প কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত না করে দেশের সব শিল্প খাতকে সমান সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এলডিসি উত্তরণের ফলে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে রপ্তানি খাত। তাই রপ্তানিকে সমৃদ্ধ করতে সব খাতকে সমান সুবিধা দেওয়া দরকার।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শরিফা খান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেন।

এছাড়া প্যানেল আলোচক ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মামুন রশীদ, এফবিসিসিআইর উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান।

তারা বলেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বছরের বাজেটেই এ বিষয়ে উদ্যোগ থাকা দরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১৬ এপ্রিল ২০২২

Back to top button