অপরাধ

মহাসড়কের জমি বন্ধক রেখে কোটি কোটি টাকা লোপাট

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল – মহাসড়কের জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক গোলাম ফারুক। এ অভিযোগে ফারুকসহ তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎকারী এবং হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফারুক এবং তার সহযোগী ফিরোজ আল মামুন ওরফে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাড্ডায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকার করেছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত গোলাম ফারুক ২০০০ সাল থেকে গাড়ি আমদানিকারক হিসেবে ব্যবসা শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কোন বন্ধকি সম্পত্তি ব্যতিত এলসি আবেদন করে গাড়ি আমদানি শুরু করে। বিদেশি ব্যাংকের টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় ওই বেসরকারি ব্যাংকটি আমদানিকৃত গাড়ি বিক্রি করে ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করার শর্তে তাকে ৭ কোটি টাকা ডিম্যান্ড লোন দেয়। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক তাকে সম্পত্তি বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে সরকারি জমিকে অসদুপায়ে ব্যক্তি নামে নিবন্ধন করার পরিকল্পনা করে।

র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ১৯৪৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ হওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর অংশের অধিগ্রহণ হওয়ার পূর্বের জমির মালিকের ছেলেকে খুঁজে বের করে। জালিয়াতির সাহায্যে সে ২০০৬ সালে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে। পরবর্তীতে ওই দলিল তৎকালীন মালিকের ছেলের কাছ থেকে ফারুক তার স্ত্রীর নামে ২০১০ সালে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে আরেকটি দলিল তৈরি করে। একই বছরে তার স্ত্রীর জমি নিজের নামে দলিল করে নেয়। যার সাফ কবলা দলিল নম্বর ৮৮৮০। ওই জমি বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে সে ব্যাংক থেকে আরও ১৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নেয়। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৩ সালে ব্যাংক অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বন্ধকি জমি নিলামে বিক্রয় করার নোটিশ জারি করলে ব্যাংক সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায় যে জমিটি সরকারি সম্পত্তি। পরবর্তীতে সে অসৎ উপায় অবলম্বন করে একটি ভ্রম সংশোধন দলিল করে পূর্বের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে মামলার বাদির জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করে। তখন ব্যাংক সেই জমিতে বন্ধকি সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। ফারুকের বিরুদ্ধে জমি জমা সংক্রান্ত, প্রতারণা, হত্যা চেষ্টা, এনআই অ্যাক্ট, জালিয়াতি ইত্যাদি অপরাধে রাজউক এর ১টি, একটি বেসরকারি ব্যাংক এর ৪টি ও পাবলিক বাদী হয়ে ৩টিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ গোলাম ফারুকের সব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী। সে উত্তরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ বিস্তারে কিশোর গ্যাং এর পৃষ্ঠপোষকতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বাড্ডা থানার মেরুল বাড্ডা এলাকায় জাল দলিল ও বিরোধের কারণে পরস্পর যোগসাজশে একটি হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে। যেখানে এক ভুক্তভোগীকে নিজ জমি থেকে জোরপূর্বক উৎখাত করার উদ্দেশ্যে প্রতারক গোলাম ফারুক ও তার প্রধান সহযোগী ফিরোজসহ অন্যরা গত ২৬ মার্চ ও ৬ এপ্রিল বাদিদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এ ঘটনায় পরে আদালতে একটি নালিশী দরখাস্ত করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বাড্ডা থানাকে মামলা হিসেবে রুজু করার আদেশ দেন। এছাড়া ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে মহাসড়কের জমি ব্যক্তি নামে নিবন্ধন, বিক্রয়, ব্যাংকে বন্ধক ও ব্যাংক কর্তৃক নিলামে বিক্রি চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তপর্ষদ গঠিত হয় ও পর্ষদ তাদের তদন্তে উল্লেখ করে যে একটি প্রতারক চক্র মহাসড়ক শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমি কয়েকটি সরকারি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নিবন্ধন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ১৬ এপ্রিল

Back to top button