জাতীয়

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছে না : ফখরুল

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল – বিচার বিভাগ দলীয়করণের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এদেশে একটা ছদ্মবেশী একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেজন্যেই তারা একে একে সব স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। সবার আগে তারা হাত দিয়েছে বিচার বিভাগে। এই বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যে রায়গুলো হয়, তা যাচ্ছে একেবারে জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

শুক্রবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গনে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে এই ইফতারে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের সহস্রাধিক নেতাকর্মী-সমর্থক অংশ নেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ইফতার অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান যিনি রাজনীতির সঙ্গে কখনই সম্পৃক্ত ছিলেন না, তার বিরুদ্ধেও দুদক একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা অত্যন্ত বেআইনি কাজ। এটা শুধু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু নয়, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

দেশের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা দেশে একটা গণতন্ত্রহীন অবস্থা বিরাজ করছে। যখন আমাদের বুকের উপরে একটা বেআইনি একটা জোর-জবরদখলকারী সরকার
রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতা দখল করার পরে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের জনগণকে একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিন বছর আগে ১৮ কোটি মানুষের ‘নয়নের মণি’ দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। আজকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনে রোষানলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে, সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে নেতাকর্মীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, আহমেদ আজম খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবদিন ফারুক, আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, তাহসিনা রশদীর লুনা, শ্যামা ওবায়েদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়াসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা, কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

ইফতারপূর্ব অনুষ্ঠানে দলের ‘গুম হওয়া’ নেতাদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।

সূত্র: যুগান্তর
এম ইউ/১৫ এপ্রিল ২০২২

Back to top button