ফ্যাশন

ফ্যাশন হলো শৈলী বা রীতি

ফ্যাশন মানে কী? অতিরিক্ত মেকআপ করে এক গা গয়না পরে বসে থাকা! না তা নিশ্চয়ই না। তাহলে কি প্রচণ্ড ঝলমলে একটা পোশাক পরে দিনের বেলায় বেরিয়ে পড়া? না, তা-ও নয়। ফ্যাশন হলো জনপ্রিয় যেকোনো শৈলী বা রীতি। ফ্যাশন মৌলিক ও পরিবর্তনশীল হয় এবং একজন ব্যক্তি অভ্যাসগতভাবে যে শৈলীতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সেটাই তার ফ্যাশন।

আসলে ফ্যাশন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার ফলেই প্রায়শই আমরা নিজেদের অজান্তে এমন কিছু ভুল করে বসি, যে অনেকেই আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকেন৷

প্রচুর গয়না:
বাইরে বেড়াতে গেলেই কি এত এত গয়না পরতে হবে? বিয়ের দিন তো প্রচুর গয়না পরেছিলেন সাধ মিটিয়ে, তাহলে পরে না হয় একটু সোবার লুকেই নিজেকে মেন্টেন করুন। ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে গয়না ভালো লাগলেও, যতটুকু মানায় ততটুকুই পরুন৷ নিজেকে জুয়েলারি মিউজিয়াম বানিয়ে কাজ নেই।

সব পেয়েছির দেশে:
কথায় রয়েছে, যা পেয়েছ তার সদ্ব্যবহার করো৷ কিন্তু কতটা নিজের জন্য প্রয়োজন সেটাই আমরা অনেকে বুঝতে পারি না৷ বুকের খাঁজ বা শরীরের ভাঁজ দেখানো বা খুব ছোট টপ পরে বেরিয়েই সব সময় নিজের সেক্স অ্যাপিল বাড়ে না। উল্টো আপনার ফ্যাশন সেন্স নিয়েই হাসাহাসি করবে লোকজন৷ টাইট ফিটিংস বা বেশি খোলামেলা পোশাক তো আর সবার জন্য নয়। এটা বুঝতে হবে।

মিসফিটে ফিট হওয়া:
যে পোশাকে আপনাকে অশ্লীল হয় তো নয়, কিন্তু বেমানান লাগাবে সেই পোশাক যতই ইভেন্ট ফ্রেন্ডলি হোক, গলাবেন না। ঢলঢলে ইভনিং গাউন বা টাইট ফ্রকে সবাইকে ভালো লাগে না। এক্ষেত্রে যদি কোনো ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক বেছ নেন, তাহলে আপনাকে ততটা বেমানান লাগবে না।

অনুষ্ঠান মাথায় রাখুন:
কখন, কার বাড়িতে, কী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, এটা সব সময় মাথায় রাখবেন। এমনকী মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো সাজটা খুঁটিয়ে দেখে নিন বের হওয়ার আগে। বিয়ে বাড়িতে কেপ্রি পরে গেলে বা সমুদ্রের ধারে পাতলা শিফন শাড়ি পরে ঘুরলে আপনার ফ্যাশন সেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বই কী!

মেকআপে ম্যাসাকার:
মেকআপের ব্যাপারে অনেকেই আমরা তালজ্ঞান রাখতে পারি না। একটু-আধটু মেকআপ ঠিক আছে, কিন্তু দিনের বেলা বাড়িতে যদি প্যানকেক লাগিয়ে কেউ ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তার সম্পর্কে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে৷ আবার মন ভালো নেই বলে ফর্মাল ফাংশনে কেউ যদি এক্কেবারে নো মেকআপ লুকে হাজির হন, সেটাও ভীষণ অদ্ভুত লাগে। নড়বড়ে হয়ে যায় আপনার পুরো গেটআপটাই।

জুতোয় যদি:
জুতোর ব্যাপারে আমরা প্রায়ই নজর দিই না। কিন্তু যদি এমন কোনো জুতো পরে আমরা বাইরে যাই যাতে আমরা খুব একটা কমফর্টেবল নয়, তাহলে পুরো ফ্যাশনটাই যাবে জলে৷ হাই হিল পরে বার বার পা মচকানো বা টাইট ফ্যাশনেবল জুতোতে পায়ে ফোস্কা পরে চলতে চলতে থেমে যাওয়ার থেকে বরং ভালো ফ্যাশন না করা।

বয়স ভাবুন:
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু অনেকেই মানতে চান না তাদের বয়স বাড়ছে। তাই ৪০-এর পর মধ্য কুড়ির ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ফলো করে অন্যের হাসির খোরাক হয়ে ওঠেন তারা। এটা করা থেকে আপনি নিজেই কিন্তু নিজেকে আটকাতে পারেন।

এম এন / ০৯ অক্টোবর

Back to top button