জাতীয়

মালয়েশিয়ার সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল – মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া বিল-ভাউচারে সরকারের ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক হাইকমিশনার মো. খায়রুজ্জামান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেল হত্যা মামলার আসামি সাবেক ওই হাইকমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বাদি হয়ে বুধবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও পরিচালক মো. খাইরুল আলমের সমন্বয়ে তদন্ত টিম বিশদ তদন্তে সাবেক ওই হাইকমিশনারের দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ বের করেছে। তদন্তকালে ওই হাইকমিশনের ক্যাশবই, ক্যাশহিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথিসমূহ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি কমিশনে পাঠানো হয়। এর সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের দালিলিক তথ্য-প্রমাণও পাঠানো হয়। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ওই তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্র পরীক্ষা করে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক ওই হাইকমিশনারের বিরুদ্দে মামলাটি দায়ের করেন।

আসামি খাইরুজ্জামান ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হাইকমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ওই দায়িত্ব ত্যাগ করে ঢাকায় দপ্তরে প্রত্যাবর্তনের জন্য থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি সরকারের ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে হাইকমিশন ত্যাগ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসৎ উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচারে সরকারের ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এজাহারে খাত ভিত্তিক অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে বলা হয়, তিনি আইন লঙ্ঘন করে শিক্ষাভাতা বাবদ ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৮ টাকা, ভ্রমণ না করে ৪টি ভাউচারের মাধ্যমে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৫ টাকা, চিল্ড্রেন এয়ার প্যাসেজ বাবদ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৫ টাকা, হাউজহোল্ড আইটেম ক্রয় বাবদ ৫ লাখ ৩১ হাজার ০৪৬ টাকা, এসি মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৯১৭ টাকা, স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ৪৬ হাজার ৯৩৩ টাকা, জ্বালানি খরচ বাবদ ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৮১২ টাকা, গাড়ি চালকের ভাতা বাবদ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা, মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করে ২ লাখ ৫১ হাজার ১২৫ টাকা, আপ্যায়ন বিল বাবদ ১০ লাখ ২৪ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

আসামির বিরুদ্ধে মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আসামি তার চাকরি জীবনের প্রথম পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে প্রেষণে হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল তাকে। এদিকে মেজর (অব:) মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি জেল হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খায়রুজ্জামান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএনপি সরকার ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেল হত্যা মামলার চার্জশিটে তার নাম আসলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। পরে তাকে করা গ্রেপ্তার করা হয় এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১৩ এপ্রিল ২০২২

Back to top button