অপরাধ

নেশার টাকার জন্য বন্ধুদের নিয়ে ফুপাকে খুন

ঢাকা, ১১ এপ্রিল – নেশার টাকার জন্য রাজধানীর উত্তরায় ব্যবসায়ী মো. শামসুদ্দিন আহম্মেদকে (৭৫) বাসার ভেতর খুন করা হয়। শামসুদ্দিনের স্ত্রী রাশিদা বেগমের ভাতিজা তানভীর আহম্মেদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ঘটনার ২৫ দিন পর তানভীরের দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে এই তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মূলহোতা তানভীরকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তার বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগী মো. মুসডলিম (২০) ও আবু সাফিকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি শাটার গান, চার রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এর আগে গত ১৫ মার্চ দুপুরে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে ১২ নম্বর সড়কের বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শামসুদ্দিনকে। তিনি প্লাস্টিক পণ্যের ডিলার ছিলেন। তার বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তানভীরসহ তিনজন উত্তরার ওই বাসায় যায়। দুপুরের দিকে তিনজনকে বাসায় রেখেই নাতনিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বেরিয়ে যান রাশিদা। ফিরে এসে দেখেন স্বামী শামসুদ্দিন খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির উত্তরা বিভাগ ছায়াতদন্ত শুরু করে। প্রথমে মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হত্যার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। পলাতক তানভীর নেশা করে এবং সে ঋণগ্রস্ত। তিনজনকে নিয়ে একটা গ্রুপ গঠন করেছিল তানভীর। তার ধারণা ছিল ফুপার বাসায় কয়েক লাখ টাকা পাওয়া যাবে। এই টাকা দিয়ে সে ঋণ থেকে মুক্ত হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই নেশা করে। শামসুদ্দিনকে হত্যা করলে নেশার টাকার ব্যবস্থা হবে বলে মনে করেছিল তারা।

শামসুদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, তারা জানতে পেরেছেন খুন করেই তানভীর ভারতে পালিয়ে গেছে। তানভীরের পরিবারকে বিভিন্ন সময়ে তারা আর্থিক সহায়তা করেছেন। তানভীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১১ এপ্রিল ২০২২

Back to top button