জাতীয়

দুদকে চিঠি দিলো বিএনপি

ঢাকা, ১১ এপ্রিল – ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে দুদক কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

দুদকে চিঠি দেয়ার পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাংলাদেশ জার্নাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দুদকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুদককে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান দুর্নীতির একটা মহোৎসব চলছে। আপনারা এখন সাহস করে অনেক কিছু লিখেছেন। যার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি। আমরা দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছি। সরকারের এক উপদেষ্টা ও আইনমন্ত্রী টেলিফোন কনভারসেশন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। সেই কনভারসেশনে যে বিষয়গুলো ছিলো সেটা আমরা জানতে চেয়েছিলাম, এর তদন্ত হয়েছে কিনা তাও জানতে চেয়েছিলাম। ফরিদপুরের অত্যন্ত সেনসিটিভ একটি পরিবার সেই পরিবারের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাঁচারের অভিযোগ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছে- ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। আর কোনো কথাই হচ্ছে না এগুলো নিয়ে। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা দুর্নীতির এই বিষয়গুলো নিয়ে আপাতত দুদককে চিঠি দেবো। সেই চিঠিতে তাদেরকে আমরা তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করবো। এরপরে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেকটা ইস্যু যেটা আসছে সেটা আমরা জাতির কাছে তুলে ধরব এবং একই সঙ্গে দুদকে পাঠাব।

দলের এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ‘উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর টেলিফোন কনভারসেশনের বিষয়বস্তু’ ও ‘ফরিদপুরে ২ হাজার কোটি টাকার পাঁচারের বিষয়ে’ তদন্ত করতে দুদকে চিঠি নিয়ে যাবেন বলেও জানান ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করবো দুদকের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা আমরা দুর্নীতির যে বিষয়গুলো দিচ্ছি সেগুলোর ওপরে সুষ্ঠু তদন্ত করে তা জাতির সামনে তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ যে ব্যবস্থা আছে তা গ্রহণ করবেন।

দুর্নীতির বিষয় দুদক আমলে নিচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুদক অত্যন্ত সিনসেটিভ ইস্যুগুলো বিষয় নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আপনারা লক্ষ্য করেছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনে একটু যারা কাজ করতে চান, তাদের স্টাফ অর্থাৎ কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের বিরুদ্ধে দুদকই ব্যবস্থা নেয়। কিছুদিন আগে দেখেছেন যে, একজন কর্মকর্তা শরীফ সাহেবকে বদলি করা হয়েছে এবং পদাবনতি করা হয়েছে একটি বিশেষ দুর্নীতির মামলার তদন্ত করার কারণে।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের যে সম্ভাবনাটা তৈরি হয়েছে সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য দুর্নীতি সবচেয়ে বড় ব্যাধি। এটা এখন ক্যান্সারের আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথায় পাবেন না যে, ঘুষ দেয়া ছাড়া কোনো কাজ হবে না, কথা শুনবে না, আইন-আদালতে বিচার পাবে না এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থাটা হচ্ছে আদালতে, সেখানে সব হুকুমে কাজ হয় সেখানেও কোনো কাজ হয় না দুর্নীতি ছাড়া। এর কারণটা হচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে দুর্নীতিকে আজকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।

দুর্নীতির ওপর শ্বেতপত্র এখন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে আমাদের শ্বেতপত্র প্রকাশের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা এখন দরকার নেই। তবে সেটা (শ্বেতপত্র) সক্রিয় আলোচনার মধ্যে আছে, বিবেচনার মধ্যে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে শেষে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দুদকের উদ্দেশ্যে গুলশানের কার্যালয় থেকে রওনা হন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১১ এপ্রিল

Back to top button