জাতীয়

ভূমিহীনদের জন্য ‘হিট প্রুফ’ ঘর তৈরি করেছে পুলিশ

মুহম্মদ আকবর

ঢাকা, ১০ এপ্রিল – অনেক ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ঘর নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে দিচ্ছে। সারাদেশে এমন ৫২০টি ঘর তৈরি করেছে বাংলাদেশ পুলিশও। আজ রবিবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সেবায় স্থাপিত সার্ভিস ডেস্কের উদ্বোধন এবং ‘গৃহহীনদের জন্য নির্মিত গৃহ হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজারবাগ প্রান্তে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্স, পীরগঞ্জ থানা এবং মাগুরা সদর থানা সরাসরি অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের সব থানা ও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করবে।

মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না- প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সহায়ক হিসেবে প্রতিটি থানায় একটি করে বাড়ি নির্মাণে ‘গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ’ শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করে পুলিশ। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে গৃহহীন পরিবারকে ন্যূনতম এক কাঠা জমিসহ একটি বাড়ি নির্মাণ দেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় ৫১৯টি থানায় ৫২০টি গৃহনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আজ ৪০০ ঘর হস্তান্তর করা হবে। গৃহহীন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম, অতিবৃদ্ধ ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই- এমন পরিবার অথবা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। দেশের ৬৫৯টি থানায় একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে।

সার্ভিস ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক কর্মকর্তা থানায় আগত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সমস্যা মনোযোগসহকারে শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে থাকেন।

মুজিববর্ষের সূচনালগ্ন ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সার্ভিস ডেস্ক পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৭৬ জন নারী, ৩২ হাজার ২৮৬ জন শিশু, ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩২৫ জন পুরুষ এবং ১১ হাজার ৮১ জন প্রতিবন্ধী এই ডেস্কের সেবা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া কাগজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। প্রতিটি বাড়ির আয়তন ৪১৫ বর্গফুট এবং এসব বাড়ি নির্মাণে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ির দেয়াল নির্মাণে ‘প্রিকাস্ট লাইট ওয়েট ফোম কংক্রিট ব্লক’ এবং ছাদের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘স্যান্ডউইচ প্যানেল’ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হিট প্রুফ অর্থাৎ গরমের সময় ঠান্ডা ও ঠান্ডার সময় গরম অনুভূত হবে। এ ছাড়া ভূমিকম্প প্রতিরোধক ও আগুন প্রতিরোধী ব্যবস্থাও আছে।

বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক থানার ওসি নিজ নিজ থানার কমপক্ষে ৫টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে সেই তথ্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ৩ জনের নাম পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়। তিনি একজন উপপ্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করেন। তারাই জেলা থেকে পাঠানো ৩টি নাম থেকে প্রতি থানায় ১টি করে নাম চূড়ান্ত করেন।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ১০ এপ্রিল

Back to top button