টাঙ্গাইল

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

টাঙ্গাইল, ০৯ এপ্রিল – টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক ইউএনও মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক কলেজছাত্রী। মনজুর হোসেন বর্তমানে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদনের পাশাপাশি মনজুর হোসেনেকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বাসাইলের ওই কলেজছাত্রী। অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর হোসেন দায়িত্ব থাকাকালীন তার সাথে পরিচয় হয় ওই কলেজছাত্রীর। এক পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার বাসাইল সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান ওই ছাত্রীকে। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাসে একসময় ওই কলেজছাত্রী ও ইউএনও টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজের সঙ্গে পাওয়ার হাউজের পেছনে একটি বাসায় একত্রে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তারা দুই মাস বসবাস করেন। এক পর্যায়ে কলেজছাত্রী বিয়ে ও সামাজিক স্বীকৃতির জন্য ইউএনওকে চাপ দেন। পরে দুজনে ভারত থেকে ফিরে বিয়ে করবেন বলেন আশ্বাস দেন ইউএনও। গত বছরের ১২ অক্টোবর তারা ভারত ঘুরে আসার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মনজুর হোসেন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়নি।

কলেজছাত্রী বলেন, ‘ইউএনও মনজুর হোসেন আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। মনজুর হোসেন বিবাহিত হয়েও তিনি অবিবাহিত পরিচয় দিয়েছেন। আমি সরল মনে তার কথা শুনে বিশ্বাস করেছি। তিনি শুধু আমাকে ব্যবহারই করেছেন, সামাজিক ভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। আমি আমার প্রাপ্য অধিকার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে ইউএনও মনজুর হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে ‘আমি দেখতেছি’ বলে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইউএনও মনজুর হোসেনের কাছে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয় নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৯ এপ্রিল ২০২২

Back to top button