টলিউড

দাম্পত্য কলহের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে মুখ খুললেন শুভশ্রীর বোন

কলকাতা, ০৫ এপ্রিল – ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। তার বোন দেবশ্রী গাঙ্গুলিও অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন। গত বছরেরে এপ্রিলে সহকর্মী অমিতের সঙ্গে ঘর বাঁধেন দেবশ্রী। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের দশদিন পরই নানাভাবে দেবশ্রীকে অত্যাচার শুরু করেন অমিত ভাটিয়া। যা পরবর্তীতে মামলা পর্যন্ত গড়ায়।

ব্যক্তিগত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন দেবশ্রী গাঙ্গুলি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘জীবনে প্রধান্য সেট করা খুবই গুরত্বপূর্ণ। ছেলেই আমার জীবনের প্রথম প্রায়োরিটি, দ্বিতীয় বাবা-মা। তার উপরে এখন পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে পারেনি। বিয়ের পর আমার জীবনে যে এসেছিল সেও কিন্তু ওই জায়গা নিতে পারেনি। মা ও ছেলে আমাকে ভীষণ ভরসা করে। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনাটি ভীষণ নাড়া দিয়েছিল। মনে হয়েছিল, যদি ভেঙে পড়ি বা কাঁদি তাহলে যারা আমাকে ভরসা করে তারা কী ভাববে! সেই কারণেই ভেবেছিলাম কাঁদব না; এর মানে এই নয় যে আমি কাঁদিনি।’

বিয়েবিচ্ছেদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু দাম্পত্য কলহর শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিজেকে সামলানো মোটেই সহজ ছিল না। তা উল্লেখ করে দেবশ্রী বলেন, ‘লোকে ভাবে আমি খুব শক্ত মানসিকতার মানুষ; সবকিছু খুব সহজেই ওভারকাম করেছি। কিন্তু বাস্তবতা সেটা নয়। কষ্ট আমারও হয়েছে, দুঃখ আমিও পেয়েছি। একা লেগেছে নিজেকে; আড়ালেও কেঁদেছি। আমিও ভেঙে পড়েছি কিন্তু ওই অবস্থা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় তা শিখেছি।’

বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায় দেবশ্রীকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে ভালোর চেয়ে বেশি খারাপ কথা শুনতে হয়েছে। অনেকে বলেছেন, সাত বছর ধরে একজন মানুষকে চিনো, আর সে কেমন তা জানো না। ন্যাকামো!’

উল্টো প্রশ্ন রেখে দেবশ্রী বলেন, ‘সত্যিই কি এভাবে মানুষ চেনা যায়? ভারতের কোন থানায় কার নামে কী মামলা আছে সেটা বোঝা সম্ভব? যখন ওর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়, সে সময় ও একজনের সঙ্গে প্রেম করতো, আমি অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলাম। পরে বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়। আসলে বুঝতে পারিনি, কী আর করা যাবে!’

এ ধরণের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উচিত নয় বলে মনে করেন দেবশ্রী। তার ভাষায়—‘আমার মতে যেকোনো টক্সিক রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে আসা দরকার, সেটা নিজের জন্য, আশেপাশের মানুষগুলোকে ভালো রাখার জন্য। আমার ১৮ বছরের ছেলে, তাকে ভালো রাখা দরকার ছিল। এই কারণেই প্রশাসনের সাহায্য নিয়েছিলাম। আর কিছুদিনের মধ্যেই ডিভোর্স ফাইনালাইজ হয়ে যাবে।’

এম এস, ০৫ এপ্রিল

Back to top button