সংগীত

টিপ কাণ্ড: সালমার স্বামী বললেন, রেপ ইস্যুতে সবার মুখে কুলুপ আঁটা

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল – কয়েক দিন আগে টিপ পরে হেনস্তার শিকার হন তেজগাঁও কলেজের এক নারী প্রভাষক। এরপর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইছে। শোবিজ অঙ্গনের অনেকে প্রতিবাদ করেছেন। অনেক অভিনেতা টিপ পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে দুটি ভাগ দেখা যাচ্ছে। এ নিয়েও চলছে জোর সমালোচনা।

ক্লোজআপ ওয়ান তারকা খ্যাত সংগীতশিল্পী সালমা। ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূর সাগরের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি। টিপ কাণ্ড নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন সাগর। এ নিয়ে সাগর তার ফেসবুকে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লেখার শুরুতে সানাউল্লাহ নূর সাগর বলেন, ‘পাগলের দেশে বসবাস আমার। আমিও পাগল। আমার দেশটাও পাগল। থুক্কু! দেশ পাগল না। দেশের মানুষগুলো পাগল। ইঞ্জিনিয়ার হয় পুলিশ। ডাক্তার হয় কাস্টমস কর্মকর্তা। উকিল হয় ব্যাংকার। আবার এদিকে বুদ্ধিজীবিরা বুদ্ধি বিক্রি করে রুটির তাগিদে। পার্লামেন্ট কাঁপে টিপ নিয়ে। অথচ রেপ ইস্যুতে সবার মুখে কুলুপ আঁটা। প্যান্টের উপর জাঙ্গিয়া পরে সুপারম্যান হওয়ার মতন অবস্থা!’

টিপ কাণ্ড নিয়ে সংসদে কথা বলেন বরেণ্য অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা। এ বিষয়টি স্মরণ করে সানাউল্লাহ নূর সাগর বলেন, ‘টিপ লয়ে কটূক্তি করার অধিকার কারো নাই। ব্যক্তি স্বাধীনতা। মানুষ তার নিজস্ব রুচিতে চলবে। কেউ কটূক্তি করলে তার শাস্তি হবে। ব্যাস! খেল খতম। এটা নিয়ে সুবর্ণা আপা পার্লামেন্ট কাঁপালেন। যেন এই রাষ্ট্র নারীর টিপ দেবার অধিকার হরণ করেছে। কোথাকার কোন পুলিশ কটূক্তি করেছে। তার বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করা হতো। এখন বিষয়টা যেভাবে দেখানো হলো, তাতে মনে হচ্ছে এই দেশ আফগানিস্তান। এখানে নারীর অধিকার খর্ব করা হয়। নারীরা স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। অথচ এই দেশের আইনগুলোও নারী বান্ধব। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা পুরুষের উপর বারডেন।’

বাংলাদেশে নারীকে আইনগতভাবে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিচ্ছে। তা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূর সাগর বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, যৌতুক আইন নারীরা একরকম অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করে। ইভ টিজিং তো একটা আছেই। আমি বলছি না, এই আইনগুলোর দরকার নাই। বুঝাতে চাচ্ছি, এই দেশে নারীরা সর্বোচ্চ অধিকার এক্সেস করার সুযোগ পায়। পুরুষদের হিংস্রতা থেকে নারী রক্ষার্থেই এসব আইন। দেখেন, আইন কেমন নারী বান্ধব! একটা মারাত্মক অ্যাবসার্ড আইনের কথা বলি। পরকীয়া করলে নারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যায় না। বরং যে পুরুষ পরকীয়া করলো তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় মামলা করা হবে। পুরুষটির পাঁচ বছরের সাজা। দুই হাতে তালি বাজে, দোষ হয় এক হাতের।’

‘যাক। আসল কথায় আসি। আমি নারী বিদ্বেষী না। নারীর প্রতি শ্রদ্ধার কোন কমতি নাই। আমার মা, বউ এবং একমাত্র সন্তানের জেন্ডারও নারী। নারীর অধিকার রক্ষা করা, তাদের নিরাপত্তা বিধান করা পুরুষদের অবশ্য কর্তব্য। এখানেও তর্ক শুরু করতে পারে কেউ কেউ। নারীর অধিকার পুরুষ কেন রক্ষা করবে? নারীর অধিকার নারী নিজেই রক্ষা করবে। যুক্তি মেনে নিলাম। কিন্তু যুগ যুগ ধরে মশাই পুরুষরাই নারীদের রক্ষা করে। বায়োলজিক্যালি পুরুষরা শক্তিশালী। প্রাচীন যুগ থেকে তাই হয়ে আসছে। এটা নিয়ে বিতর্ক মানে কুতর্ক।’ বলেন সাগর।

টিপ পরে অভিনেতাদের প্রতিবাদের সমালোচনা করে সানাউল্লাহ নূর সাগর বলেন, ‘অন্যদিকে পুরুষরা ইচ্ছা মতো টিপ পড়তেছে। এটা নাকি প্রতিবাদ! প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরুষ নারী হয়ে যাচ্ছে। আজব ব্যাপার স্যাপার! ধরেন, নারীর মেন্সট্রুয়েশান নিয়ে কোন পুরুষ কটুক্তি করলো। ইনফ্যাক্ট, আগে নাকি এমন করতো। ওই নারীদের ব্যবহারিক প্যাড নিয়ে পাউরুটি টাউরুটি বলে কটুক্তি করতো। এর বিপরীতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুরুষরা কি মেন্সট্রুয়েশানের ব্যবস্থা বা প্যাড পরা শুরু করবে? এসব অদ্ভুত আচরণ! এমন প্রতিবাদে নারীর অধিকার রক্ষা হয় না বরং খর্ব হয়।’

সানাউল্লাহ নূর সাগর মনে করেন দেশের নারীবাদিরা অদ্ভুত। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এ দেশের নারীবাদিরা অদ্ভুত ক্যাটাগরির! এদের ন্যারেটিভ কনফিউজিং। কয়েকদিন আগে রাস্তায় নারী গুলি খেয়ে মরলো। নো প্রতিবাদ। নারী, শিশু রেইপ হয়; নো প্রতিবাদ। টিপ নিয়ে কটূক্তি হলো। মহা প্রতিবাদ। মানুষের ফ্রিডম অব চয়েছ নষ্ট হলে প্রতিবাদ তো হবেই। তাই না। আচ্ছা! নারী হিজাব পরলে দোষ! তখন ফ্রিডম অব চয়েছ সিন্দুকে তালা মেরে রাখেন। তাই তো! হ্যাঁ, ঠিক। এসব অদ্ভুত প্রাণীগুলোই আমাদের দেশের নারীবাদী। সো কলড বুদ্ধিজীবী!’

এম এস, ০৫ এপ্রিল

Back to top button