ইসলাম

মাহে রমজানে আমাদের করণীয়

মাওলানা মুনীরুল ইসলাম

হিজরি বারো মাসের মধ্যে সেরা মাস রমজান। এ মাসব্যাপী রোজা রাখা আল্লাহ তায়ালা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর ফরজ করেছেন। তাই যাদের ওপর নামাজ-রোজা ফরজ হয়েছে, তাদের ওপর রমজানের সবকটি রোজা রাখতে হবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। নামাজ শুধু রমজান মাসে নয়, সারা বছরই গুরুত্বসহ আদায় করতে হয়। এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য আমলের প্রতিদান দেবেন ফেরেশতাদের মাধ্যমে, আর রোজার প্রতিদান দেবেন আল্লাহ নিজ হাতে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোজা হলো ঢালস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে রোজা পালন করবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। যদি তার সঙ্গে কেউ ঝগড়া বিবাদ কিংবা মারামারিতে লিপ্ত হতে চায়, তবে তাকে বলে দেবে- আমি রোজাদার। (মুসলিম)

পবিত্র রমজানের রোজার ক্ষেত্রে পাঁচটি পালনীয় দিক রয়েছে:
১. চাঁদ দেখে রোজা রাখা
২. সকাল হওয়ার আগে রোজার জন্য নিয়ত করা
৩. পানাহার ও জৈবিক বিশেষ করে যৌন চাহিদা পূরণ করা থেকে বিরত থাকা
৪. ইচ্ছাকৃত বমি করা থেকে নিবৃত্ত থাকা এবং
৫. রোজার পবিত্রতা রক্ষা করা

নেক আমলে, দীনি কাজে তানাফুস প্রশংসনীয় ও গ্রহণীয়। রমজান মাসে ইবাদতের তানাফুস আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অফুরন্ত রহমত ও বরকতের কারণ।

সাহাবি হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কাছে রমজান মাস এসে গেছে। তা বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। গুনাহ মাফ করেন। দোয়া কবুল করেন। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের তানাফুস (নেক কাজের প্রতিযোগিতা) দেখেন এবং ফেরেশতাদের সঙ্গে তা নিয়ে গর্ব করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে তোমাদের নেক আমল দেখাও। হতভাগা সে যে এ মাসেও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। (তাবারানি)

রমজান মাসে বান্দাদের নেক আমল করার পরস্পরের প্রতিযোগিতা আল্লাহ তায়ালা আগ্রহভরে দেখেন। আবার তা নিয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্বও করেন। তাই আমাদেরও অধিক পরিমাণে নেক কাজের প্রতিযোগিতামুখী হতে হবে। অন্যের চেয়ে ইবাদত বেশি করার জিদ, ইচ্ছা, আগ্রহ মনের ভেতরে থাকতে হবে। এ প্রতিযোগিতার মানসিকতা সাহাবিদের মধ্যেও ছিল। পরবর্তী যুগের নেককার লোকদের মধ্যেও ছিল।

আর যারা ছোট, নামাজ-রোজা এখনও ফরজ হয়নি, তাদেরও মসজিদে নিয়ে আসা উচিত। তারাও বাবা কিংবা ভাইয়ের সঙ্গে রুকু সেজদা করবে, নামাজ পড়বে। ছোটরাও বেশি না পারে কয়েকটি রোজা রাখবে। এতে করে তাদের রোজা রাখার অভ্যাস হবে। ইফতারিতে অন্যরকম আনন্দ আর স্বাদ পাওয়া যাবে। ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করা যাবে। এর সওয়াব আল্লাহ তায়ালা মা-বাবাকে দান করবেন। আমরা প্রতি রমজানেই এমন কিছু খবর পাই যে, ৬ বছরের মেয়ে ১০টি রোজা রেখেছে, ৭ বছরের ছেলে ১২টি রোজা রেখেছে ইত্যাদি।

আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের আশেপাশে যে গরিব-অসহায় পরিবার রয়েছে, তাদের খোঁজখবর রাখতে হবে। তারা কী দিয়ে সাহরি খেল, কী দিয়ে ইফতার করল। আমাদের বাচ্চাদের বয়সী প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা কী খেল, কী পরল সে খোঁজ রাখতে হবে। তাদেরকে ইফতার করাতে হবে। কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে সারাদিন রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

এ মাসই আমাদের জীবন গড়ার উত্তম সময়। আমরা যেন এ মাসের করণীয়গুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারি।

এম এস, ০৫ এপ্রিল

Back to top button