ক্রিকেট

দ. আফ্রিকার ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ‘গালাগালির’ অভিযোগ মুমিনুলের

ডারবান, ০৪ এপ্রিল – পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের কারণে ডারবান টেস্ট নিয়ে এমনিতেই চারদিকে আলোচনা। টুইট করেছেন খোদ সাকিব আল হাসানও। এরমধ্যেই ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা অতিমাত্রায় ‘গালিগালাজ’ করেছেন তাদের।

সোমবার (৪ এপ্রিল) ম্যাচ শেষে এমন অভিযোগ করেন মুমিনুল, ‘স্লেজিং তো হয় মাঠে। এটা স্বাভাবিক। স্লেজিং যদি মাঝে মাঝে গালাগালির পর্যায়ে চলে যায়, তখন এটা খুব খারাপ। আমার কাছে মনে হয় মাঝে মধ্যে তারা গালিগালাজ করছিল। খুব বাজেভাবে। যেটা আম্পায়ারও ওভাবে ওদের নোটিশ করেনি।’

একবার-দুইবার নয়, ডারবান টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ারদের অনেক সিদ্ধান্ত ওভারটার্ন হয়েছে। রিভিউতে পাল্টে গেছে অভিজ্ঞ মারাইস এরাসমাস ও আড্রিয়ান হোল্ডস্টকের সিদ্ধান্ত। কখনো বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে সফল হয়েছে। আবার কখনো দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে গেছে। আবার আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেক সময় রিভিউ নেয়নি বোলার কিংবা ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু টিভি রিপ্লে দেখে হতাশায় ডুবেছেন তারা। এর মধ্যে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের অতিমাত্রায় স্লেজিং।

তবে এর কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে রাজি হননি মুমিনুল, ‘এগুলো বিষয় শেয়ার করা যাবে না। এগুলো আম্পায়াররা হয়তো ওভাবে খেয়াল করেনি। এসব ব্যাপারে এখনো কোনো কিছু ওভাবে জানানো হয়নি।’

করোনাভাইরাসের কারণে এখন নিরেপক্ষ আম্পায়ার থাকে না দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। মুমিনুল জানিয়েছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় আইসিসির এখন এই বিষয়টা নিয়ে ভাবা উচিত। বিভিন্ন সময় আম্পায়ারদের নিজ দেশের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করার কথাও বলেছেন টেস্ট অধিনায়ক।

মুমিনুল বলেছেন, ‘আম্পায়ারিংয়ের যে ইস্যুটা বললেন সেটাও আমাদের হাতে নেই। কিন্তু আমার কাছে একটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, আইসিসির এগুলো বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত। নিরপেক্ষ আম্পায়ারিংগুলো আবার নিয়ে আসা উচিত। কোভিডের আগে যে অবস্থা ছিল, কোভিডের কারণে হতো না, এখনতো কোভিড মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। আমার মনে হয় আইসিসিসির এই বিষয়গুলো ভাবা দরকার। নিরেপক্ষ আম্পায়ারিং ফেরানো উচিত।’

‘এই সিরিজে নয়, অনেক সময় অন্য সিরিজেও এরকম হয়েছিল। আম্পায়াররা ওই দেশের ওই দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। যেগুলো আমরা এই সিরিজেও দেখছি, আগের সিরিজেও দেখেছি।’- আরো যোগ করেন মুমিনুল।

শুধু চতুর্থ দিনেই দুই আম্পায়ার এরাসমাস ও হোল্ডস্টক বিতর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ৭টি। পুরো টেস্টে যা হবে প্রায় ডজনখানেক। মুমিনুল ছাড়াও এটি নিয়ে মুখ খুলেছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন ও সাকিব। এ ছাড়া গতকাল চতুর্থ দিন শেষে দুই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তামিম ইকবালকে। তিনি অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি এই টেস্ট।

২৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৫৩ রানে অলআউট হয়। চতুর্থ দিন শেষে বিকেলে বাংলাদেশ মাত্র ১১ রানে হারায় ৩ উইকেট। পঞ্চম দিন খেলতে নেমে এক ঘণ্টাও ব্যাটিং করতে পারেনি মুমিনুল হকের দল। ৫৫ মিনিটে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। কেশব মহারাজ মাত্র ৩২ রান দিয়ে একাই নেন ৭ উইকেট।

মুমিনুল চতুর্থ দিন বিকেলে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়াকে চাপ হিসেবে দেখছেন, ‘কালকের দিনে যখন তিন উইকেট পড়েছিল, আমার কাছে মনে হয় আমরা চাপটা নিতে পারিনি। এছাড়া আর কোনো কারণ দেখি না।’

পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৭ এপ্রিল থেকে। মুমিনুলের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে এই ম্যাচ দিয়ে, ‘ঘুরে দাঁড়ানো যাবে। না করার তো কোনো কারণ নেই। আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ৫ দিনের মধ্যে ৪টি দিন ভালো খেলছি। কালকের শেষ সেশনটা আমরা বাজে খেলেছি। আবার আজকে প্রথম সেশনটা। তো এখানে অনেক ইতিবাচক ইঙ্গিত আছে। যেগুলো দেখলে মনে হয় আমরা সবাই ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০৪ এপ্রিল

Back to top button