দক্ষিণ এশিয়া

ইমরান খানকে রাষ্ট্রদ্রোহী বললেন নওয়াজ শরীফ

ইসলামাবাদ, ০৪ এপ্রিল – ইমরান খান সংবিধানকে পদদলিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সর্বোচ্চ নেতা নওয়াজ শরিফ। পার্লামেন্টে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের ঘটনায় ইমরান খান এবং তার সহযোগীদের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। খবর- দ্য ডনের।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে নওয়াজ শরিফ টুইটে বলেছেন, ইমরান খান দেশ ও জাতির চেয়ে তার ইগোকে বেশি গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের অমর্যাদা ও সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করার বিষয়ে তাকে জবাবদিহি করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন নওয়াজ।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। আদালতের রায়ে তাকে দলীয় প্রধানের পদও ছাড়তে হয়। এখন তার ভাই শাহবাজ শরিফ পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট, গতকাল ভেঙে দেওয়া দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধী নেতা ছিলেন।

গতকাল রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ইমরান খানের ভাগ্যনির্ধারণী অধিবেশন শুরু হয়। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পার্লামেন্টে খারিজ করে দেন। সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে এই অনাস্থা প্রস্তাব সাংঘর্ষিক বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি। অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পর ইমরান লিখিতভাবে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব জানান। প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাব অনুমোদন করে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন।

দেশটিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন ইমরান খান। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ ধারা অনুযায়ী, পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আগ পর্যন্ত ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৫ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এদিকে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পর গতকাল জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, দেশে শাসন পরিবর্তনের বিদেশি প্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নাকচ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান।

ইমরান বলেন, আমি উদ্বিগ্ন অনেক লোকের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছি। জাতির সামনে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, চিন্তা করবেন না, পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা আল্লাহ দেখছেন।

এর আগে অধিবেশনের শুরুতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য হচ্ছে দেশের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা।

গতকাল অধিবেশন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। তাই রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এছাড়া ইসলামাবাদ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এক নোটিশে রেড জোন এলাকায় পাঁচজনের বেশি মানুষের সব ধরনের জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি শরিক দল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় ইমরানের দল। বিরোধী দলগুলোর আইনপ্রণেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। কোণঠাসা হয়ে পড়া ইমরান খান অবশ্য বরাবরই আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন। শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দেবেন বলে জোর দিয়ে বলেছিলেন তিনি।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০৪ এপ্রিল ২০২২

Back to top button