ক্রিকেট

শেষবারের মতোন কিউই জার্সিতে রস টেলর

ওয়েলিংটন, ০৪ এপ্রিল – লুটেরু রস পোটোয়া লট টেলর, এই নাম বললে ঠিক কয়জনই বা চিনতে পারবেন তাকে। অথচ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে তিনি রীতিমতো কিংবদন্তি। ক্রীড়ানুরাগী হলে অবশ্য এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা; তিনি আর কেউ নন রস টেলর।

সামোয়া উপজাতি থেকে উঠে এসে যিনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম সেরা হিসেবে। কিউই ক্রিকেটে অনেক ইতিহাস লিখেছেন নতুন করে। সেই রস টেলর, বিদায় নিলেন শেষবারের মতোন। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ের পর এই বছরের জানুয়ারিতে টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। আজ (৪ এপ্রিল) শেষবারের মতোন কিউই জার্সিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই গুডবাই বলে দিলেন এই ক্রিকেটার।

বিদায়ী ম্যাচ বা সিরিজ কোনোটি অবশ্য ভালো কাটেনি এই ক্রিকেটারের। তিন ম্যাচে রান পেয়েছেন যথাক্রমে ১১, ১ ও ১৪। ব্যাটে রাঙাতে না পারলেও রস টেলরের মাহাত্ম্যের কিছুটাও কমে কী তাতে?

একদমই না। টেলর তো নিজেকে কিউই ক্রিকেটে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন সর্বোচ্চ টেস্ট, ১১২টি। প্রথম কিউই ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কীর্তি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ ৭৬৮৩ রানও টেলরের দখলে।

কেবল টেস্ট নয় অবসরে যাওয়ার সময় কিউই ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতেও সর্বোচ্চ রানের মালিক হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন টেলর। ৮৬০৭ ওয়ানডে রান আছে টেলরের নামের পাশে। যেখানে ২১টি শতক ও ৫১টি অর্ধশতক আছে এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নামের পাশে। কিউইদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

এমনকি সব ফরম্যাট মিলিয়ে কিউইদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮১৯৯ রানও টেলরের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কেন উইলিয়ামসনের চেয়েও যা প্রায় ২৫০০ রানের বেশি। দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ শতক ও ৯৩ অর্ধশতক টেলরেরই। দেশটির উইকেটরক্ষকের বাইরে ফিল্ডিংয়েও সর্বোচ্চ ডিসমিসাল টেলরের, ৩৫০টি। যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটরক্ষদের ছাড়া চতুর্থ সর্বোচ্চ। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রিয় নায়ক স্বদেশী মার্টিন ক্রোকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সব ক্ষেত্রে।

পরিসংখ্যান দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে টেলরের অমরত্ব সহজেই প্রকাশ করা যায়। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে কিউই ক্রিকেটে টেলরের প্রভাব বোঝানোর ক্ষেত্রে কেবল একটি কথায় বলা যায়, নির্ভরতা। টেলর থাকা মানে দলের সব চাপ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। দলের খুব বাজে সময়েই যেন টেলরের সেরাটা প্রকাশ পেত। প্রয়োজনের সময় যেমন দাঁতে দাঁত চেপে মাঠে পড়ে থাকার কাজ করতে পারতেন তিনি, প্রয়োজনে আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিয়ে দলের প্রতি নিজের দায়িত্ব এবং নিবেদন প্রকাশ করে গেছেন শেষ ১৬ বছর ধরে।

অবশেষে ৩৮ বছর বয়সে এসে থামলেন টেলর। তিন সন্তানকে সবুজ গালিচায় জাতীয় সংগীতের সময় পাশে রেখে। সামোয়ান উপজাতিদের সংগ্রামের গল্প, তাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করা টেলরের বিদায়ের গল্পের সেই সময় থামলো চোখের কোণে ছলছল অশ্রুর আবরণে; আর একবার শেষবারের মতোন।

রস টেলরকে ‘গার্ড অব অনার’ জানিয়ে শেষবারের মতোন মাঠ থেকে বিদায় দিলেন নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা। যার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ব্ল্যাকক্যাপসদের ফেসবুক পেজ। আরটিভির পাঠকদের জন্য ভিডিওটি শেয়ার করা হলো।

সূত্র : আরটিভি
এম এস, ০৪ এপ্রিল

Back to top button