ইউরোপ

রুশ বাহিনীর দৃষ্টি এখন বন্দর নগরী ওডেসায়

কিয়েভ, ০৩ এপ্রিল – ইউক্রেনে হামলার মোড় ঘুরিয়ে নিয়েছে রুশ বাহিনী। রাজধানীর কিয়েভ ও এর আশপাশ ছেড়ে এবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সংগঠিত হচ্ছে। সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ছে। বিমানের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। রুশ যুদ্ধজাহাজগুলো কৃষ্ণ সাগরে চক্কর দিচ্ছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ওডেসা। এটি কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কৌশলগত অঞ্চল। ওইদিকেই মোড় নিয়েছে রুশ বাহিনী। ইতোমধ্যে শহরটির মধ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে কারা, কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সবার দৃষ্টি ঘুরে এখন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরীর দিকে, যেদিকে স্থানীয় সময় রোববার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ওডেসায় থাকা ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদদাতা ইসাবেল খুরশুদিয়ান টুইট করে বলেছেন, এখন ওডেসার কেন্দ্রস্থলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমার হোটেলের জানালাগুলো কেঁপে উঠল। তবে সেটি কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

ওডেসা এখন একটি আসন্ন আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাসিন্দারা সরে গেছেন এবং ক্যাফে ও ট্রামগুলো খালি হয়ে গেছে। কারণ রাস্তাগুলো রুশ ট্যাঙ্কের দখলে চলে গেছে। এছাড়া বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভটি ঘিরে রাখা হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক বালির ব্যাগে।

তবে বিবিসির অ্যান্ড্রু হার্ডিং গত সপ্তাহে রিপোর্ট করেছেন, বিমান হামলার সাইরেন, প্রতিবেশীদের সতর্ককতা, রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা সত্ত্বেও শহরটি সতর্কতার সঙ্গে পুনরায় সব খুলতে শুরু করেছে।

এই আস্থা আংশিকভাবে কৃষ্ণ সাগর উপকূলে রাশিয়ার স্থবির অগ্রগতির ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, ওডেসা কতটা প্রস্তুত? তিনি সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, রুশ বাহিনী এখন দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল দখলের দিকে মনোনিবেশ করেছে।

যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রথম স্থলে একটি ঘাঁটি স্থাপন করা ছাড়া সমুদ্রপথে ওডেসা নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে রাশিয়ার জন্য। যদিও এরইমধ্যে শহরের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার বিস্তীর্ণ ভুগর্ভস্থ টানেলগুলোকে বিমান হামলার আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শনিবার রাতে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এবার রুশ সৈন্যদের লক্ষ্য কী? তারা এখন দনবাস এবং ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের অঞ্চল দখল করতে চায়। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও ওইদিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে। আমার সচেতন রয়েছি। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি চাপ বাড়ানোর ব্যবস্থা মজুদ রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান কার্যক্রম বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন এই অঞ্চল রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়টি।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হ্রাস করার জন্য রাশিয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইউক্রেন রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানকে বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসছে।

এদিকে রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকাগুলো রুশ সেনাদের কাছ থেকে পুনরায় নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার হামলা শুরুর পর শনিবার এই প্রথম কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল পুরো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি উঠল।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/০৩ এপ্রিল ২০২২

Back to top button