ইউরোপ

ইইউকে রাশিয়ার হুমকি

মস্কো, ০২ এপ্রিল – প্রতিদিনই ইউক্রেন পরিস্থিতি নতুন মোড় নিচ্ছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির পর মনে করা হয়েছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অচিরেই বন্ধ হবে। কিন্তু রাশিয়ার মাটিতে ইউক্রেনের হেলিকপ্টার হামলার পর যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। এমন অবস্থায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আক্ষরিক অর্থেই ইউরোপকে গ্যাস নিয়ে হুমকি দিলেন। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়া যদি এখনই ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে গোটা ইউরোপীয় অঞ্চলকে অপরিসীম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া ছাড়াও সাধারণ ইউরোপীয়দের জীবন সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুতিন সম্প্রতি এক ডিক্রিতে বলেছেন, রাশিয়ার তেল-গ্যাস ক্রেতাদের অবশ্যই রুবলে (রুশ মুদ্রা) মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আর এই নিয়ম চালু হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকেই। পুতিন বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ বিনামূল্যে কিছু বিক্রি করে না। আমরাও দাতব্য সংস্থা খুলে বসিনি। এ পর্যন্ত জ্বালানি প্রশ্নে যত চুক্তি হয়েছে সব বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার পুতিনের জারি করা ডিক্রির কারণে ইউরোপ তাদের কাছে সরবরাহ হওয়া গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। রাশিয়ার গ্যাসের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল জার্মানি এরই মধ্যে ‘জরুরি পরিকল্পনা’ কার্যকর করেছে, যা শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশকে গ্যাস রেশনিংয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও অনেকের অনুমান।

পুতিন বৃহস্পতিবার আরও বলেন, ‘রাশিয়ার গ্যাসের ক্রেতাদের অবশ্যই রাশিয়ার ব্যাংকে রুবল অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেসব অ্যাকাউন্টেই আগামীকাল (১ এপ্রিল) থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। যদি এভাবে মূল্য পরিশোধ না হয়, তাহলে আমরা একে ক্রেতাদের অক্ষমতা বিবেচনা করব।’ পুতিনের এমন বক্তব্যের পর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দেশ জার্মানি ও ফ্রান্স। দেশ দুটি পুতিনের সিদ্ধান্তকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে অভিহিত করেছে। পশ্চিমা কোম্পানিগুলো এবং সরকার এর আগে রুবলে মূল্য পরিশোধ নিয়ে রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। যদিও রাশিয়া যদি তার অবস্থানে দৃঢ় থাকে তাহলে রুবল ছাড়া গ্যাসের মূল্য পরিশোধের সত্যিই আর কোনো উপায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর আছে কিনা তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। ইতালি বলছে, তারা রাশিয়ার পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া দেখাতে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে; বলেছে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বিঘি্নত হলে তাদের নিজেদের মজুদে যে গ্যাস আছে তা দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে। এদিকে জার্মানির জ্বালানি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং মস্কো গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে তার রোডম্যাপ নিয়ে বার্লিনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রুবলে মূল্য পরিশোধে পুতিনের নেওয়া সিদ্ধান্ত রাশিয়ার মুদ্রাকে ফের শক্তিশালী করে তুলেছে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/০২ এপ্রিল ২০২২

Back to top button