জাতীয়

‘১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ লোক আয়কর দেন’

ঢাকা, ০২ এপ্রিল – জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারীর (টিন) সংখ্যা ৬০ লাখের ওপরে। কিন্তু নিয়মিত আয়কর দেন ২৪ লাখ টিনধারী। সেই হিসেবে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ লোক আয়কর দেন। অর্থাৎ আয়কর দেন মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ লোক।

শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট) ভবনে আসন্ন বাজেটে ‘ক্ষুদ্র অর্থনীতি: প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ তথ্য উঠে আসে।

এসময় ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বর্তমানে রাজস্বের ৭০ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কর জিডিপি অনুপাত মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে এটি হওয়া উচিত সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ। রাজস্ব খাতে প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ বাড়াতে আমাদের পরামর্শ হলো- করদাতার রিটার্নে যাতে সব সম্পদ প্রতিফলিত হয় তা নিশ্চিত করা। বিআরটিএ, ভূমি রেকর্ড অফিস এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে।

বাংলাদেশের জিডিপি দুই হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে বলে জানান আইসিএবি সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাজারসহ আভ্যন্তরীণ বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণে অতিরিক্ত নতুন করে দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। মাথাপিছু আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও কৃষি খাত এবং অকৃষি খাতের মধ্যে মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। কৃষির ওপর নির্ভরশীল ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী, অথচ কৃষি খাতে জাতীয় আয়ের অবদান মাত্র ১৩ শতাংশ। দারিদ্র দূরীকরণে তথা বৈষম্য হ্রাসে কৃষি খাতে অধিক দৃষ্টিপাতের দরকার রয়েছে। কৃষি খাতের উপকরণে ভর্তুকি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন মো. শাহাদাৎ হোসেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত মজুরি হার সূচক বেড়েছে ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যসূচক বেড়েছে ৮৪ শতাংশ।

আইসিএবি সভাপতি আরও বলেন, অন্যুৎপাদনশীল সুদ খাতে ব্যয় কমানো প্রয়োজন বলে মনে করি। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে সুদ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে আইসিএবি এবং অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরএফ’র সভাপতি শারমীন রিনভী। আরও অংশ নেন- পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান সভাপতি মো. আসিফ ইব্রাহিম ও ইআরএফ’র সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সূত্র : জাগো নিউজ
এম এস, ০২ এপ্রিল

Back to top button