ক্রিকেট

এবার মিরাজকে নিয়ে লড়ছেন সেঞ্চুরিয়ান জয়

ডারবান, ০২ এপ্রিল – অপরপ্রান্তে চলছে যাওয়ার আসার মিছিল, তাতে যেন বয়েই গেলো তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়ের। সঙ্গী হিসেবে কেউই থাকছেন না দীর্ঘক্ষণ। তবু দলের সকল আশা বাঁচিয়ে লড়ছেন এ ডানহাতি ওপেনার। এবার অষ্টম উইকেটে তার লড়াইয়ের সঙ্গী মেহেদি হাসান মিরাজ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৫৭ রান। এখন প্রোটিয়াদের চেয়ে আরও ১১০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করে ১০৬ রানে অপরাজিত মাহমুদুল জয়, মেহেদি মিরাজ খেলছেন ২৪ রান নিয়ে।

গত বছর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল জয়ের। সেই ম্যাচের দুই ইনিংসে তিনি করেছিলেন ০ ও ৬ রান। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২৮ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।

সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আজ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেললেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। শুধু পঞ্চাশ পেরিয়েই থেমে যাননি তিনি। নিজের ফিফটিকে রূপ দিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ইনিংস খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন জয়।

কিংসমিডে শুরু থেকেই ধৈর্য্যের মূর্ত প্রতীক হয়ে খেলছিলেন জয়। প্রথম ৫০ করতে তিনি খেলেন ১৭০ বল। কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ফিফটিটি করেছিলেন ১৬৫ বলে। আজ আরও ৫ বল বেশি খেলে পঞ্চাশ করার পর হাত খোলেন তিনি।

তাই তো পরের পঞ্চাশ করতে জয়ের লেগেছে মাত্র ৯৯ বল। এই পঞ্চাশে পাঁচটি চারের সঙ্গে ছিল একটি বিশাল ছয়ের মার। সবমিলিয়ে ২৬৯ বলে ১০ চার ও ১ ছয়ের মারে সেঞ্চুরি করেছেন জয়। তার ব্যাটেই এখন প্রোটিয়াদের কাছাকাছি যাওয়ার আশা বাংলাদেশের।

ডারবানের কিংসমিডে আগেরদিন ৪৯ ওভার খেলে ৪ উইকেটে ৯৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। আজ দিনের শুরুতেই সাজঘরের পথ ধরেন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা তাসকিন আহমেদ। অভিষিক্ত লিজাড উইলিয়ামসের বলে গালিতে দাঁড়িয়ে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন উইয়ান মাল্ডার।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ করতে থাকেন লিটন দাস। অপর প্রান্তে বরাবরের মতোই আস্থাশীল ব্যাটিং করেন মাহমুদুল জয়। প্রোটিয়া পেসারদের বাউন্সারে পুল-হুক করতে দুইবার ভাবেননি লিটন আর স্পিনার আসতেই খোলস ছেড়ে বের হন জয়।

অফস্পিনার সাইমন হার্মারের করা ইনিংসের ৬০তম ওভারের প্রথম বলে স্ট্রেইট ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের ফিফটি পূরণ করেন মাহমুদুল জয়। গত বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা নিজের সবশেষ ম্যাচেও ফিফটি করেছিলেন তিনি।

সেদিন পঞ্চাশে পৌঁছতে জয় খেলেন ১৬৫ বল। সবমিলিয়ে ২২৮ বলে করেছিলেন ৭৮ রান। আজ টানা দ্বিতীয় ফিফটি করার পথে জয় খেলেন ১৭০ বল। যেখানে ছিল পাঁচটি চারের মার। ফিফটি ছোঁয়ার পর হাত খুলে খেলেন জয়। হার্মারের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে হাঁকান বিশাল এক ছয়।

অন্যদিকে শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন লিটন। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শটে রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। মধ্যাহ্ন বিরতির আগপর্যন্ত তিনি করেন ৯০ বলে ৪১ রান। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস জয় অপরাজিত থাকেন ৮০ রান করে।

অবশ্য দুজনই জীবন পেয়েছেন একবার করে। ব্যক্তিগত ৬৪ রানের মাথায় শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান জয়। আর নিজের ৩৯ রানের সময় শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন লিটন। তার বিপক্ষে কট বিহাইন্ডেরও সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বাঁচেন লিটন।

আগের ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। এবারও হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যান লিটন। কিন্তু দারুণ ছন্দে থাকা লিটন চল্লিশের ঘরে গিয়ে খেই হারান। লিজাডের গতিতে ইনসাইড এজ হয়ে স্ট্যাম্প খোয়ান ব্যক্তিগত ৪১ রানে, তার ৯২ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি বাউন্ডারি।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই লিটন আউট হওয়ার পর সপ্তম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন জয় ও ইয়াসির। দুজনের জুটিতে ভালোই খেলছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা জয় ধৈর্য্যের প্রদর্শনী করছিলেন আর ইয়াসির ছিলেন সাবলীল।

ইনিংসের ৮৯তম ওভারের প্রথম বলে অনসাইডে ঠেলে দিয়ে সহজেই এক রান নেন জয়। কিন্তু ইয়াসির ছোটেন দুই রানের জন্য। অথচ নন স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে শুরু থেকেই নো কল করছিলেন জয়। তা দেখেননি ইয়াসির। ফলে ব্যক্তিগত ২২ রানে কাটা পড়েন রানআউটে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এম এস, ০২ এপ্রিল

Back to top button