জাতীয়

কারা ছিল টিপু হত্যায় পরিকল্পনায়!

ঢাকা, ০১ এপ্রিল – রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী প্রীতি হত্যার ঘটনায় তদন্তে বেশ কিছু নাম পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি সূত্র জানায়, টিপু হত্যার আগে পরিকল্পনায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশ গ্রুপ, জিসান গ্রুপ, ফ্রিডম মানিক গ্রুপ ও ইখতিয়ারের লোকজনসহ বোচা বাবু হত্যার মামলার অন্যতম আসামি মুসা উপস্থিত ছিল। মূলত বোচা বাবু হত্যাকে কেন্দ্র করে টিপুর সঙ্গে বিরোধের পাশাপাশি এলাকার রাজনীতি, চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক ব্যক্তির স্বার্থে টিপুকে হত্যা করা হয়।

এদিকে টিপু হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে দফায় দফায় জিজ্ঞসাবাদ করা হয়েছে। তার তথ্যের আলোকে এরই মধ্যে স্থানীয় একাধিক নেতা ও পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীর একাধিক সন্দেহভাজন সহযোগীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নিজস্ব তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে অনেকের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এর মধ্যে টিপু হত্যায় জড়িত সন্দেহ আবুল হোসেন মোহাম্মদ আরফান উল্লাহ ইমাম খান ওরফে দামাল নামের একজনকে ১টি বিদেশি রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার সময় মতিঝিল দক্ষিণ কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মতিঝিল থানার দক্ষিণ কমলাপুর, রূপালী যুব উন্নয়ন সংস্থার সামনে অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করতো।

এদিকে ডিবি মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বলেন, ঢাকার মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু হত্যার ঘটনার আগে আরফান উল্লাহ দামালসহ কয়েকজন কমলাপুর রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে রূপালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থায় একটি বৈঠক করেছিল।

তিনি বলেন, দামালকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় অস্ত্র মামলা হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে এনে টিপু হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটিও পরীক্ষা করা হবে।

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাসিনো কাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী বেশকয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। এরপর থেকে টিপু একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন মতিঝিল এলাকায়। নিয়ন্ত্রণ করেন ঠিকাদারি। এ ছাড়া রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন গুরুত্বের বাইরে থাকলেও হঠাৎ দলে তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। প্রভাব হারাতে থাকেন আগের ক্ষমতাসীনরা। মতিঝিল, আরামবাগ, এজিবি কলোনি, শাহজাহানপুর, কমলাপুর টিপুর একক নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে ক্রমান্বয়ে। টিপু ও তার স্ত্রী কাউন্সিলর ডলির ঘনিষ্ঠজনরাই এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

এ বিষয়ে নিহত টিপুর সহযোগী বায়জীদ বলেন, টিপু ভাইকে অনেক ক্ষোভ নিয়ে টার্গেট করেই হত্যা করা হয়েছে। কারণ খুনি তিনবার করে এসে তাকে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হবার পরও তাকে বৃষ্টির মতো গুলি করা হয়। খুন করার সময় খুনির আশেপাশেই হয়তো নির্দেশদাতা ছিল। নাহলে পরপর এতোগুলো গুলি করতো না।

কাউকে সন্দেহ করছেন কিনা চানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভাইয়ের সাথেই রাজরীতি করেছি। দিনের অনেকটা সময় ভাইয়ের সাথে থাকা হতো। তবে তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি। আর তিনি নিজের মধ্যেই সবকিছু রাখতে পছন্দ করতেন। পেছনেই আমার বাসা। নিজের কষ্টগুলোও শেয়ার করতেন না।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে জাহিদুল মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুর আমতলা কাঁচাবাজার হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে জাহিদুল ও তার গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন।

এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশ দিয়ে রিকশায় যাচ্ছিলেন বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতি। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক মুন্না বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায়।

এ ঘটনায় গত ২৫ মার্চ দুপুরে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ০১ এপ্রিল

Back to top button