ব্যবসা

মূল্যবৃদ্ধি: রোজায় বেগুনী-লেবুর শরবত হতে পারে কেবল স্বপ্ন!

ঢাকা, ০১ এপ্রিল – দু’দিন পরই শুরু রোজা। প্রতি বছর রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। মূলত ইফতারি তৈরির উপাদানগুলো যেন নিয়ম মেনেই বাড়ে। এবারও তাই হলো। তবে এবার ব্যতিক্রম দেখা গেছে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে, এখন পর্যন্ত দাম বাড়েনি এই পণ্যের। অন্যদিকে ইফতারির প্রধান কিছু উপকরণ বেগুন, শসা, লেবু, ধনেপাতা, পেঁয়াজ ও চিনির দাম বেড়ে গেল।

এক সপ্তাহ আগেও যে লেবু প্রতি হালি বিক্রি করা হতো ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এছাড়াও এক কেজি লম্বা বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ফলে ইফতারিতে বেগুনি ও লেবুর শরবত খেতে বাড়াতে হবে ব্যয়।

দাম বেড়েছে শসা, ধনেপাতা ও চিনিরও। এর সবই ইফতারি তৈরির উপাদান। এছাড়াও বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম।

এভাবে দামবেড়ে যাওয়ায় রোজায় কষ্ট বেড়ে যাবে দরিদ্র মানুষদের। অন্যদিকে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে মানুষের ভিড় বাড়ছে।

এদিকে মন্ত্রীরা জানিয়েছিলেন, সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারণে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। রোজায় নিত্যপণ্যের দাম নতুন করে আর বাড়বে না।

মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যের পরেও রোজা শুরু আগ মুহূর্তে বাড়ছেই নিত্যপণ্যের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি শশা ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ধনেপাতার দাম বিক্রেতারা গতকাল নিয়েছেন ৭০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে ব্যতিক্রম পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তনীয় রয়েছে। সরবরাহেও ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ৩০ টাকা কেজিতেই পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।

এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে বেগুন, শসা ও পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি না থাকলেও লেবু ও ধনেপাতার সরবরাহ আগের চেয়ে একটু কমেছে। এদিকে রোজার আগে এই দুই পণ্যের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে দামও বেড়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাসান নামের রাজধানীর মগবাজারের এক বাসিন্দা জানান, এক সপ্তাহ আগে এক হালি লেবু তিনি ৩০ টাকায় কিনেছিলেন। এখন কিনতে গেলে তার কাছে ৫০ টাকা চাওয়া হয়, দর দাম করে ৪৫ টাকায় এক হালি লেবু কিনে নিয়ে এসেছেন তিনি।

খোলা চিনির দামও কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হতো ৮০ টাকায়।

রাজধানীর মিরপুরের এক দোকানী জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগে ১ বস্তা (৫০ কেজি) চিনি কিনেছিলেন ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। গতকাল একই বস্তা কিনেছেন ৩ হাজার ৬৮০ টাকায় (পাইকারি দর)।

এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সোনালিকা (কক) মুরগি ও গরু মাংসের দাম আরেক দফা বেড়েছে। গতকাল মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের একটি দোকানে সোনালিকা মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এই বাজারে সোনালিকা ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর গরুর মাংসের দাম ছিল প্রতি কেজি ৬২০ টাকা। গতকাল ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

সুখবর আছে সয়াবিন তেলে। সরকারের বেঁধে দেয়া দরে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো সব দোকানে নতুন দরের ১ লিটার ও ২ লিটার তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ দোকানে বিক্রি হচ্ছে শুধু ৫ লিটার তেলের বোতল। প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৬০ টাকা এবং ৫ লিটারের দাম ৭৬০ টাকা বেঁধে দিয়েছে সরকার।

বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির পরিবেশকদের কাছে ছোট বোতল (১ লিটার ও ২ লিটার) পাওয়া যাচ্ছে না।

১ লিটার ও ২ লিটারের যে তেলের বোতল দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বোতলের গায়ে আগের দাম লেখা রয়েছে। বিক্রিও হচ্ছে আগের দামে। ১ লিটারের দাম ১৬৮ টাকা, ২ লিটারের দাম ৩৩৫ টাকা। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে এখনো বেশি দাম দিয়েই (১ ও ২ লিটার বোতলের ক্ষেত্রে) তেল কিনতে হচ্ছে।

বেড়েছে জিরা, দারচিনি, এলাচ, আদা, শুকনা মরিচের দামও। গত কয়েকদিনে জিরার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকার মতো বেড়েছে। দারুচিনির দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। এলাচের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। একইভাবে আদার দাম ১০-২০ টাকা ও শুকনা মরিচের দাম ২০-২৩০ টাকা বেড়েছে।

যদিও মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ পাইকারী গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল জানান, পাইকারীতে মসলার দাম তারা বাড়ান নি। খুচরা ব্যবসায়ীরা কেন মসলার দাম বাড়িয়েছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০১ এপ্রিল ২০২২

Back to top button