নাটক

ওয়েব সিরিজে অপরাধের গল্পের প্রাধান্য

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

ঢাকা, ০১ এপ্রিল – একের পর এক সিনেমা হল যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, দেশীয় টিভি নাটকে দর্শক কমতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময় আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে অনলাইন। ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ছবির মাধ্যমে দর্শক প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি চলছে নিরীক্ষাধর্মী কাজের প্রতিযোগিতা, যার সুবাদে নির্মাতারা যেমন স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি পাচ্ছেন বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস। যে কারণে নির্মাতারা তাদের গল্প উপস্থাপনের ভঙ্গিতে যেমন পরিবর্তন নিয়ে আসতে পেরেছেন, তেমনি শিল্পীরাও নতুন সব চরিত্রের মধ্য দিয়ে দর্শক মনোযোগ কাড়তে পারছেন। যেজন্য স্বল্প সময়ে দর্শকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে দেশীয় ওয়েব ছবি ও সিরিজগুলো।

কিন্তু ওয়েব ছবি ও সিরিজগুলোর গল্পের বিষয় একই দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘুরেফিরে অপরাধের গল্পই হয়ে উঠছে ওয়েবের মূল উপকরণ।
সত্য ঘটনার আলোকে শিহাব শাহীন নির্মিত ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’ ও রায়হান রাফির ওয়েব ছবি ‘জানোয়ার’ দর্শকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বাস্তবের নির্মমচিত্র এর আগে কোথাও সেভাবে উঠে আসেনি। এর আগের ও পরে সত্য আর যেসব মৌলিক গল্প নিয়ে ওয়েব ছবি ও সিরিজ নির্মিত হয়েছে, সেখানেও প্রাধান্য পেয়েছে অপরাধের গল্প। নির্মাতা আশফাক নিপুনের আলোচিত সিরিজ ‘মহানগর’-এর কাহিনি রচিত হয়েছে অপরাধ জগতের খণ্ডচিত্র নিয়ে।

অন্যদিকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’-এ আছে এক নারীর শ্নীলতাহানির গল্প। অনন্য মামুন তার ওয়েব ছবি ‘কসাই’র গল্পে অপরাধ জগতের চিত্রই তুলে ধরছেন। তামিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ‘মানি হানি’ সিরিজের কাহিনি গড়ে উঠেছে জীবনের জটিল ঘটনাচক্রে ডাকাতির পথ বেছে নেওয়া তিন তরুণকে ঘিরে। অন্যদিকে নির্মাতা আনুশ ‘হায়দার’-এ তুলে ধরেছেন সিরিয়াল কিলারের গল্প। এর পাশাপাশি অপরাধ আর অন্ধকার জগতের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক সাইড অব ঢাকা’, ‘মরীচিকা’, ‘শাটিকাপ’, ‘বলি’, ‘কন্ট্রাক্ট’, ‘সাবরিনা’সহ আরও বেশ কিছু ওয়েব ছবি ও সিরিজ দর্শক আলোচনায় ছিল বিভিন্ন সময়। যেখানে নানা ধরনের গল্প থাকলেও অপরাধ ছিল সেসব গল্পের বিষয়।

নির্মাণের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হলেও গল্প নির্বাচনে একই বিষয় কেন বারবার উঠে আসছে? এ প্রশ্নের জবাবে নন্দিত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এদেশে ওয়েব সিরিজ বা ছবি নির্মাণ শুরু তো বেশি দিনের ঘটনা নয়। শুরুর দিকে তো অনেকে এটাই বুঝতে পারেননি নাটক, টেলিছবি ও সিনেমা থেকে ওয়েব সিরিজের পার্থক্য কীভাবে বের করা যায়। হতে পারে সেজন্য অনেকে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম বা অলোচিত অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে ধরনের সিরিজ নির্মিত হচ্ছে, সেগুলোর মতো একই ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। তবে আমি মনে করি, আমাদের ওয়েব সিরিজের গল্পেও বিষয়-বৈচিত্র্য উঠে আসবে। এরই মধ্যে নানা ধরনের গল্প নিয়ে অনেকে কাজও করেছেন। তাই এখনকার গল্পে কোন বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে, এটা নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই।’

নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, ‘নাটক, টেলিছবিতে আমরা যে গল্পগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাইনি, সেটাই ওয়েবে তুলে ধরছি। কাজের বিষয়ে যথেষ্ট নিরীক্ষা চালানোরও সুযোগ পাচ্ছি। স্বাধীনভাবে এবং ভালো বাজেটে কাজের সুযোগ থাকায় সেই বিষয়গুলো বেছে নিচ্ছি, যা নিয়ে আগে খুব এটা কাজ হয়নি। এ কারণেই ক্রাইম থ্রিলার, পলিটিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল অপরাধের বিষয়গুলো কাহিনিতে তুলে ধরছি। দর্শক সাড়াও পাচ্ছি, আমাদের কাজগুলো নিয়ে। যেজন্য এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এ সময়ের দর্শকের ওয়েব দুনিয়ায় কী দেখতে পছন্দ করেন।’ নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, ‘দর্শক ফ্যান্টাসির চেয়ে থ্রিলার বেশি পছন্দ করে। যেজন্য ওয়েবে অপরাধ জগতের গল্পই প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে আগামীতে অনেক বিষয়ই এতে যুক্ত হবে।’

এম ইউ/০১ এপ্রিল ২০২২

Back to top button