জাতীয়

১৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধার মাসিক ভাতা বন্ধে বিএনপির উদ্বেগ

ঢাকা, ৩০ মার্চ – সরকার কর্তৃক ১৭ হাজার ২৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মাসিক ভাতা বন্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সরকার কর্তৃক হঠাৎ করে ১৭ হাজার ২৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মাসিক ভাতা বন্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, একদিকে যখন দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে ফেলবে। অন্যদিকে শত বার্ষিকী পালনের অজুহাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতীয় শিল্পিকে নিয়ে কনর্সাটে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে।

বৈঠকে সম্প্রতি বিচার বর্হিভূত হত্যা ও গুমের অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের উদ্ধত্যপূর্ণ উক্তি, অপেশাদারী আচরণ, হুমকি ও অব্যাহত মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি এই ধরনের মন্তব্য শুধু শিষ্টাচার বিবর্জিতই নয় তা রাষ্ট্রের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। তাই অবিলম্বে এই ধরনের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবার আহ্বানও জানানো হয় বৈঠকে।

‘কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানের ঢাকা-টরেন্টো পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে কর্মকর্তাদের প্রমোদ ভ্রমণ অন্যদিকে টিসিবির ট্রাকের পেছনে অভাবী মানুষের দীর্ঘ লাইন, আওয়ামী স্বচ্ছল পরিবারদের ন্যয্য মূল্যে পণ্য ক্রয়ের কার্ড বিতরণ জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা ছাড়া কিছু নেই। যেহেতু এই অনির্বাচিত সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই সেহেতু জনগণের দুর্ভোগ ও দুঃখ কষ্ট লাঘবের কোনও উদ্যোগও এই সরকারের নেই।’

বৈঠকে গত ২৭ মার্চ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মির্জা ফখরুল, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও চট্টগ্রামের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে পুলিশের বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বৈঠক মনে করে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধের অসম্মান করেছে এবং সংবিধানে সম্মত মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বেগম সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ৩০ মার্চ

Back to top button