কক্সবাজার

১১শ রোহিঙ্গা নিয়ে ভাসানচরের পথে ৫ জাহাজ

কক্সবাজার, ৩০ মার্চ – কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে মোট এক হাজার ৯৭ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে নৌবাহিনীর পঁচটি জাহাজ রওনা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজগুলো ভাসানচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে এক হাজার ৯৯ জনকে নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয় রোহিঙ্গাদের বহনকারী ৩৯টি বাস। এদের মধ্যে দুই জন নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নেভি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই নারীর একজন সন্তানসম্ভবা এবং অন্যজন সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। ফলে এক হাজার ৯৭ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে ছেড়ে যায় নৌ-বাহিনীর জাহাজ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৪ এপিবিএনের এসপি মো. নাইমুল হক জানান, মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা ১টা ও বিকেল সাড়ে ৫টায় দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে রোহিঙ্গাভর্তি গাড়ির বহর। প্রথম বহরে ১০৯৬ জন আর দ্বিতীয় বহরে ৯০৩ রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন। তারা মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পৌঁছে বুধবার সকালে সেখান থেকে ভাসানচরে উদ্দেশ্যে জাহাজে ওঠেন।

রোহিঙ্গা নেতা হাফেজ জালাল ও হোসেন আহমদ জানান, ক্যাম্পে সহিংস ঘটনার কারণে আতংকিত উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের লম্বাশিয়া, বালুখালী, মধুরছড়া, তাজনিমার খোলা ও জামতলীসহ বিভিন্ন শিবিরের অনেকে ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন, অথচ আগে তারা সেখানে যেতে চাননি।

রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তারা আরও জানান, সম্প্রতি ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ভাসানচর এলাকা পরিদর্শন করায় রোহিঙ্গাদের মাঝে আরও উৎসাহ বেড়েছে।

এদিকে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিক পর্যন্ত ১২তম দফায় ২৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা সরকার ভাসানচর পৌঁছে। ২১ মার্চ সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে মালেশিয়া যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া ১৪৯ রোহিঙ্গাকেও ভাসানচর পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ২০২০ সালের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচর নিয়ে রাখা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

সূত্র : ঢাকাটাইমস
এম এস, ৩০ মার্চ

Back to top button