ইউরোপ

ইস্তাম্বুল-দুবাইয়ে প্রপার্টি কেনার হিড়িক রুশদের

মস্কো, ২৯ মার্চ – ইউক্রেন আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে রাশিয়া। ফলে সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে এবার তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ঝুঁকছে রাশিয়ার ধনী ব্যক্তিরা। এসব দেশে রাশিয়ানদের সম্পদ কেনার হিড়িক পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আবাসন সংশ্লিষ্টরা।

ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন সাইন আবাসন কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুল গুল বলেন, তারা রাশিয়ানদের কাছে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি ইউনিট বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয় তাদের অনেকেই নগদ অর্থ দিয়ে সম্পদ কিনছে কিংবা তুরস্কে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে। এ ছাড়া কেউ কেউ স্বর্ণও নিয়ে আসছে।

দুবাইয়ের মডার্ন লিভিং আবাসন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থিয়াগো কালডাস বলেন, রুশ নাগরিকদের সেবা দিতে ৩জন রুশ প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের ব্যবসা দশ গুণ বেড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্বের বৃহত্তম সুরক্ষিত আর্থিক লেনদেন নেটওয়ার্ক, সুইফট থেকে বাদ পড়ে রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন রাশিয়ার বিনিয়োগকারীরাও। বিশেষ করে যারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে জাতিসংঘের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে আঙ্কারা। মস্কোর সঙ্গে দুটি দেশেরই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অনেকে আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত প্লেন চলাচল চালু রেখেছে দেশ দুটি। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক স্বার্থে এটি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ইউক্রেনে হামলার আগে রাশিয়ানরা ৫০৯টি বাড়ি কেনে তুরস্কে। তুরস্কের পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের চেয়ে এবছর বাড়ি কেনার সংখ্যা দ্বিগুণেরও কাছাকাছি হয়েছে। এ পরিসংখ্যান নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগের। তবে এটি আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন আবাসন কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

ইস্তাম্বুলে ইব্রাহিম বাবাকানের কোম্পানি তুরস্কে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরি ও বিক্রি করে। তিনি বলেন, আগে ভূমধ্যসাগরের আন্তালিয়া অঞ্চলে রিসোর্টে বসবাসে আগ্রহ ছিল অনেক রুশ নাগরিকের। বর্তমানে নিজেদের অর্থ বিনিয়োগে তারা ইস্তাম্বুলে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন।

রয়টার্সের তরফে আবাসন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলতে পারলেও যারা বাড়ি কিনছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে নারাজ তারা।

তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই সম্পত্তির ক্রেতাদের বাসস্থানের প্রণোদনা প্রদান করে। তুরস্কে, বিদেশি যারা সম্পত্তির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রদান করেন তারা তিন বছরের জন্য তুর্কি পাসপোর্ট পেতে পারেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই, তিন বছরের আবাসিক ভিসা অফার করা হয় সেখানে।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/২৯ মার্চ ২০২২

Back to top button