জাতীয়

৬ বছরে জলবায়ু বিপর্যয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি এক লাখ ৮০ হাজার কোটি

ঢাকা, ২৯ মার্চ – বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদী বিধৌত ব-দ্বীপ বাংলাদেশ আরও অনেক প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। গত ছয় বছর (২০১৫-২০) জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশের এক লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার সমমূল্যের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা মোট জিডিপির এক দশমিক ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ পরিবেশ পরিসংখ্যান-২০২০’ রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম, দুর্যোগ ও ত্রাণ সচিব ম. কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন।

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ পরিসংখ্যান শক্তিশালীকরণ (ইসিডিএস) প্রকল্পের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম প্রকাশনা অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

জরিপের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ফল হলো- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতিv হিসাব নিরূপণ করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০১৫-২০২০ সময়কালে অর্থাৎ ছয় বছরে আর্থিক ক্ষতি এক লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শস্যখাতে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, প্রাণিসম্পদে ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, পোলট্রিতে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ, মৎস্যখাতে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া জমি (ভূমি) অবক্ষয়ে খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে প্রতি বছর। বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, অবকাঠামো প্রভৃতি খাতে ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং খানাভিত্তিক সামাজিক বনসহ উঠানের গাছপালার ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে শুধু বৃহৎ কৃষি সেক্টরে (শস্য, প্রাণিসম্পদ, পোলট্রি, মৎস্য, বন) সর্বমোট ৭১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি ১০ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। নদীভাঙনে দুই হাজার ৬৮ কোটি, ঘূর্ণিঝড়ে দুই হাজার ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। জলবায়ুর কারণে গত ছয় বছরে পরিবারভিত্তিক ক্ষতি এক হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এরমধ্যে শস্যখাতে ৩৬ দশমিক ২০, প্রাণিসম্পদে ৪ দশমিক ৭৬, পোলট্রিতে ১ দশমিক ২১ শতাংশ, মৎস্যখাতে ৫ দশমিক ৮২, জমিতে ২৬ দশমিক ৭২ শতাংশ ও বসতঘর, রান্নাঘরে ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।

সূত্র :জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৯ মার্চ

Back to top button