ইউরোপ

রুশ হামলায় মারিউপোলে প্রাণহানি প্রায় ৫ হাজার

কিয়েভ, ২৯ মার্চ – রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের মারিউপোলে নিহত বেড়ে প্রায় পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২১০টি শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মারিউপোল শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কোর বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরু থেকে মারিউপোল শহরে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা নিহত হয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৩০ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়।

এদিকে মেয়র বয়চেঙ্কোর উদ্ধৃতি দিয়ে ইউক্রেনীয় বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ সামরিক অভিযানের মধ্যে অনেকে বের হয়ে আসতে পারলেও রোববার পর্যন্ত মারিউপোল শহরে এখনও ১ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দা অবস্থান করছিলেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, রুশ হামলায় শহরের বহুতল আবাসিক ভবনগুলোর ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এর মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইউক্রেনীয় ওই বার্তাসংস্থার দাবি, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অনবরত হামলায় ৭টি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া একই কারণে মারিউপোলের ৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে মারিউপোল শহর থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে জোর করে রুশ ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে গত রোববার রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কিয়েভ।

সোমবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে- মারিউপোল থেকে ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মাইল) পূর্বে বেজিমেনে নামক স্থানে একটি অস্থায়ী শিবিরে আনুমানিক ৫ হাজার মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে রাশিয়া।

অবশ্য রাশিয়ার এলাকায় ঠিক কত মানুষ স্বেচ্ছায় গেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ইউক্রেনীয়দের অনেকের রাশিয়ায় আত্মীয় রয়েছে। আর তাই রুশ ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয়া বা নির্বাসিতদের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ২৯ মার্চ

Back to top button