শিক্ষা

২১ ঘণ্টা পর খোঁজ মিললো ঢাবি ছাত্রের

ঢাকা, ২৭ মার্চ – ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার সাড়ে ২১ ঘণ্টা পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানের খোঁজ মিলেছে। রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

আশিকুরের বন্ধু হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে আশিকুর রহমানকে নিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হচ্ছি। একটু আগে তার বাবাকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। উনার সাথে আমরা বন্ধুরা এবং আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারও এসেছেন।’

ডিবি অফিসে উপস্থিত থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আশিকুর রহমানকে একটু আগে (৮টা ৩০) ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উনি মিন্টু রোড়ের ডিবি কার্যালয়ে আছেন খবর পেয়ে আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যানসহ আমরা সবাই সেখানে যাই। তারপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তাকে কী কারণে ধরা হয়েছিল এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।’

আশিকুর রহমানের সাথে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন একাউন্টিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষদর্শী মহসীন। খোঁজ না পাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘গতকাল রাত ১১টার দিকে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন আমাদের ফ্ল্যাটে আসেন। তাদের কয়েকজন সিভিল ড্রেসে, ৭/৮ জন পুলিশ এবং ৩/৪ জন আনসার ছিলেন। তারা এসে আমাদের ফোন চেক করতে শুরু করেন এবং বলেন আমাদের সমস্যা আছে। তারা বলেন, পাশের বাসার কোনো ঝামেলার সাথে আমরা জড়িত।’

‘তারপর আমাদের হাতকড়া পরিয়ে দেন। একটু পর আশিক ভাইয়ের ফোন চেক করে বলেন, উনাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যেতে হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। জিজ্ঞাসাবাদ করে কালকে ছেড়ে দেয়া হবে। এটি বলে তারা আশিক ভাইকে সাথে নিয়ে যান এবং আমাকে ছেড়ে দেন।’

এদিকে ডিবি পরিচয়ে আশিকুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মানববন্ধন করে তার পরিবার, বিভাগের একদল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে আশিকুরের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সকালে তার বন্ধুদের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। গতকাল রাতে তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য লালবাগ ও শাহবাগ থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু উনারা জিডি গ্রহণ করেননি। তারপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাই। আমি অতি দ্রুত আশিককে আমাদের মাঝে ফিরে পেতে চাই।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ঊষাণ আরা বাদল বলেন, ‘আমি আমার ছাত্রদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে এসেছি। এভাবে একজন ছাত্রকে তুলে নিয়ে যাওয়া একটি মর্মান্তিক বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত তাকে ফিরে পাব।’

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৭ মার্চ ২০২২

Back to top button