জাতীয়

আগেও টিপুকে হত্যার চেষ্টা চালায় মাসুম, নেপথ্যে কারা?

ঢাকা, ২৭ মার্চ – আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটনার আগের দিনও চেষ্টা চালিয়েছিল গ্রেপ্তার শুটার মাসুম। প্রথম দিন সফল না হলেও গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা টিপুকে সে হত্যা করে। ওই ঘটনায় টিপুর পাশাপাশি আরও এক কলেজছাত্রী প্রাণ হারায়।

এদিকে শুটার মাসুমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আতঙ্কের পাশাপাশি জনমনে কৌতূহলও রয়েছে।

হত্যার ৫ দিন আগেই এই খুনের কন্টাক্ট পায় মাসুম। তিন দিন আগে নাম পায় কাকে খুন করতে হবে। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগের দিন টিপুকে কমলাপুরে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সে। আর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য টাকা নয়, আগের কয়েকটি মামলা তুলে নেয়াসহ বিশেষ সুবিধা দেয়ার চুক্তিতে কিলিং মিশনে নামে মাসুম। কিন্তু কন্টাক্ট কে দিয়েছিলো সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার জাহিদুল ইসলাম টিপুকে তার রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় যাওয়ার রাস্তায় অনুসরণ করে গুলি করার প্রস্তুতি নেয় মাসুম। কিন্তু লোকজন বেশি থাকায় সে ব্যর্থ হয়। এরপর ঘটনার দিন আবার তথ্য আসে টিপু তার রেস্টুরেন্ট আছে।

এমন সংবাদ পেয়ে শুটার মাসুম দ্রুত জাহিদুল ইসলাম টিপুর রেস্টুরেন্টের কাছ থেকে টিপুকে অনুসরণ করে গুলি করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু টিপু অনেক লোকজনের মধ্যে থাকায় গুলি করতে না পেরে মাসুম টিপুর গাড়ি অনুসরণ করতে থাকে। টিপুর গাড়ি শাহজাহানপুর রেল লাইনের আগে আমতলা সংলগ্ন রাস্তায় যানজটে আটকা পড়লে শুটার মাসুম চালকের পাশের আসনে বসা টিপুকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি করে পালিয়ে যায়।

রোববার শুটার মাসুকে গ্রেপ্তার করে একইদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ সব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, শাহজাহানপুরের চাঞ্চল্যকর মো. জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি হত্যা মামলার শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগ।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদের ভিত্তিতে হাফিজ আক্তার জানান, গ্রেপ্তার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ ঘটনার আগের দিন বুধবার জাহিদুল ইসলাম টিপুকে তার রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় যাওয়ার পথে গুলি করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বেশি লোকজন থাকায় পারেনি।

ডিবি প্রধান বলেন, এরপর ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাসুমকে জানায় টিপু তার অফিসে (রেস্টুরেন্ট) অবস্থান করছে। এই সংবাদ পেয়ে গ্রেপ্তার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ দ্রুত জাহিদুল ইসলাম টিপুর রেস্টুরেন্টের কাছে চলে যায়। এরপর সে টিপুকে অনুসরণ করে গুলি করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু টিপু অনেক লোকজনের মধ্যে থাকায় গুলি করতে না পেরে টিপুর গাড়ি অনুসরণ করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, টিপুর গাড়ি শাহজাহানপুর রেল লাইনের আগে আমতলা সংলগ্ন রাস্তায় যানজটে আটকা পড়লে গ্রেপ্তার শুটার মাসুম চালকের পাশের আসনে বসা টিপুকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি করে পালিয়ে যায়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তার দুই বন্ধুর সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে সে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপরাধ রিকশারোহী প্রীতি এবং টিপুর মৃত্যুর সংবাদ দেখতে পায়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, তার সহযোগী যারা ছিল, এ ঘটনার পেছনে কারা ছিল- তাদের গ্রেপ্তার করবো। এছাড়া মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সহযোগী অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

গ্রেপ্তার মাসুম মোহাম্মদ আকাশের নামে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৭ মার্চ

Back to top button