জাতীয়

গোয়েন্দা জালে টিপুর খুনি

সাজ্জাদ মাহমুদ খান

ঢাকা, ২৬ মার্চ – রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপুর একাধিক খুনি এখন গোয়েন্দা জালে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দাদের ব্যাপক তৎপরতায় সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন খুনিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুনি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আরেকটু যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা থেকেও প্রায় একই তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি ও র‌্যাবের ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, কী কারণে টিপুকে খুন করা হয়েছে, নেপথ্য কারণই বা কী- এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা দিয়ে বলছে, ক্রীড়া পরিষদের ৩৭টি টেন্ডার, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা, রাজনৈতিক আধিপত্য ও এক দশক আগে খুন হওয়া মিল্কি হত্যার বিষয় এর পেছনে কাজ করতে পারে।

জানা গেছে, মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও ফ্রিডম মানিকের সঙ্গে নিহত টিপু দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। পরিবার প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা বলে এবং সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে টিপুকে খুন করার একটি নীলনকশার চিত্র পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, টিপু খুন হতে পারেন- এমন একটি ধারণা গত সপ্তাহেই দেওয়া হয়েছিল। অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে টিপুকে বলা হয়েছিল- ‘চাচা আপনি খুন হতে পারেন’।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় টিপুকে খুন করা হয়। প্রতিদিন একই রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরতেন টিপু। এটি খুনিরা জানতেন। হত্যাকাণ্ডের আগে খুনিরা এলাকা রেকিও করেছে।

পরিকল্পনা মতো, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে খুনিরা মতিঝিল কলোনিবাজার থেকে একটি মোটরসাইকেল করে টিপুর মাইক্রোবাসের পিছু নেয়। অপরাধীরা রেকি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানতো, টিপুর বাড়ির কাছাকাছি রেলগেট এলাকায় গাড়িটি যানজটে আটকে যাবে। সেটি মাথায় রেখেই কিলিং মিশনে অংশ নেয় তারা। টিপুর গাড়ি যানজটে আটকে গেলে রোড ডিভাইডারের ফাঁকা দিয়ে তারা মোটরসাইকেল উল্টো পথে নিয়ে টিপুর গাড়ির কাছাকাছি রাখে।

ফুটেজে দেখা যায়, পলো শার্ট, বুকের সামনে ব্যাগ আর মাথায় হেলমেট পড়া খুনি মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসে। এরপর মাইক্রোবাসের সামনে সিটে বসা টিপুর গাড়িতে গুলি চালায়। গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় ২০ সেকেন্ডের মধ্যে টিপুকে লক্ষ্য করে ১২টি গুলি করা হয়। ঘটনার রাতে ওই রাস্তার উল্টো দিকের মার্কেট বন্ধ ছিল। রাস্তাও ছিল ফাঁকা। ফলে গুলির পরপর দ্রুত সটকে পড়া সহজ হওয়ায় খুনিরা বৃহস্পতিবার রাতের নিস্তব্ধ সময় বেছে নেয়।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, খুনি চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে খুনিকে ধরার আগ পর্যন্ত খুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব ছিল। প্রায় এক দশক আগে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা মিল্কি খুনের পর টিপুর রাজনীতিতে পতন হয়। তবে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবে পাশাপাশি বিভিন্ন টেন্ডার তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এর মধ্যে শুধু গত বছরই ক্রীড়া পরিষদের ৩৭টি টেন্ডারের তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। এটা নিয়ে তার সঙ্গে অন্যদের বিরোধ তৈরি হয়। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল। ফুটপাতে দোকান বসানো ও বাজারের দোকান নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আধিপত্য ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। শুধু স্বার্থের বিরোধ নাকি তার সঙ্গে মিল্কি খুনের প্রতিশোধ যুক্ত হয়েছে খুনি গ্রেপ্তারের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলেছেন, ২০১৩ সালে মিল্কি খুনের ঘটনায় নিজ দলের প্রতিপক্ষরা টিপুকে দোষারোপ করে। সেই মামলায় টিপু জেলও খেটেছেন। মিল্কি খুনের পর তার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা কানাডা চলে যান। বছর দুয়েক আগে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই আধিপত্য ও টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে টিপুর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও টিপু- দুজনের বাড়িই ফেনী জেলায়। মতিঝিল এলাকার নিয়ন্ত্রণ তারা সমন্বয় করে করতেন। সম্রাট জেলে যাওয়ার পর পুরো মতিঝিলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় টিপুর হাতে। আস্তে আস্তে তার প্রতিপক্ষও বাড়তে থাকে। দলীয় সাবেক ও বর্তমান একাধিক কমিশনার এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কোন্দলও চরম আকার ধারণ করে। আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল ও অবৈধ অর্থ উপার্জন নিয়ে বিরোধে টার্গেট হন টিপু।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় চাঁদাবাজ ও নেতাদের পাশপাশি আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি ও জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিকের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়ান টিপু। মূলত মতিঝিল এলাকার টেন্ডারবাজি, মার্কেট নিয়ন্ত্রণ ও বাড়ি নির্মাণের চাঁদাবাজির পুরোটাই একক নিয়ন্ত্রণ করতেন টিপু। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা খালেদ ও ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর একক নিয়ন্ত্রণ চলে আসে টিপুর হাতে। এর পাশাপাশি মতিঝিল ও পল্টন এলাকার দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ এবং আবুল হোসেনের সঙ্গে টিপু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের টেন্ডারবাজি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, রেলওয়ে, কমলাপুর আইসিডি ডিপো, বিদ্যুত ভবন ও গণপূর্তের টেন্ডারবাজির একটি কমিশন বিদেশে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও ফ্রিডম মানিককে দিতে হতো। গত ৩ বছর ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছে এইসব টেন্ডারবাজির কোনো কমিশন না দেওয়ায় টিপুর সঙ্গে তাদের বিরোধ চরমে ওঠে।

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশান-১ নম্বরে সপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কি (৪৩) কে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় মিল্কির ছোট ভাই মেজর রাশেদুল হক খান মিল্কির বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় জাহিদুল ইসলাম টিপু আসামি ছিলেন। র‌্যাবের হাতে টিপু গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকমাস জেলেও ছিলেন। পরবর্তীতে র‌্যাবের দেওয়া চার্জশিট থেকে টিপুর নাম বাদ পড়ে। মিল্কি হত্যার পর টিপুর সঙ্গে যুবলীগের খালেদ ও সোহেল শাহরিয়ারসহ অনেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্ব›দ্ব দেখা দেয় বলে দলের একাধিক নেতা জানান।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালে মতিঝিল এলাকায় যুবলীগ নেতা রিজভী হাসান বাবু ওরফে বোচা বাবু খুন হন। বোচা বাবুর বাবা টিপুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বোচা বাবু হত্যা মামলায় ১০-১২ জন আসামি করা হয়। যারা সবাই যুবলীগের নেতা-কর্মী। সম্প্রতি একজন প্রভাবশালী নেতা মামলার এক আসামির নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু বাদ সাধেন টিপু। বিষয়টি নিয়ে সেই আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও ফ্রিডম মানিককে নালিশ করেন। এই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের পক্ষ থেকে টিপুর সঙ্গে একাধিকবার কথোপথনে নাম বাদ দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু টিপু সেই নির্দেশ শোনেনি।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে মতিঝিল এজিবি কলোনির একটি সংযোগ সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে নির্মাণ করা টিনশেড মার্কেটটি সিটি কর্পোরেশন ভেঙে দেয়। মার্কেটটি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মির্জা খোকন দেখভাল করতেন। ২০১৯ সালের পর টিপু সেখানে মার্কেট স্থাপন করে প্রায় একশ দোকান ভাড়া দেন। ওই মার্কেটে টিপুর একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এই মার্কেট নিয়েও তার সঙ্গে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল।

এদিকে, দলীয় আধিপত্য ও আর্থিক দ্বন্দ্ব ছাড়াও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন, স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য, উন্নয়ন কাজে ভাগবাটোয়ারাসহ স্কুলের সামনের সড়ক দখল করে ভাড়া তোলা নিয়েও প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছে টিপুর। তিনি স্কুলের ফুটপাত থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন প্রতিনিয়ত। স্কুলের সড়কে পার্কিং করা গাড়ি থেকেও প্রতিনিয়ত চাঁদা নিত টিপুর লোকজন। স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য ছিল তার একচেটিয়া। স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদায়ী প্রিন্সিপাল শাহান আরা ও শিক্ষক প্রতিনিধি সালাম খান এবং তার ভাই আতিকের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে প্রায় সবকিছু কব্জায় রাখেন টিপু। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার ঘনিষ্ঠ ও প্রতিপক্ষ সবার সাথেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

টিপুর বন্ধুর জবানীতে খুনের বর্ণনা :

ঘটনার সময় একই গাড়িতে টিপুর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিজানুর রহমান ও কালাম নামে স্থানীয় এক বড় ভাই গাড়ির পিছনের সিটে বসা ছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় যানজটে আটকে ছিল জাহিদুলের মাইক্রোবাস। এ সময় দুই অস্ত্রধারী জাহিদুলের মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কাচ ভেঙে জাহিদুলের শরীরে একাধিক গুলি লাগে। চালক মুন্নাও গুলিবিদ্ধ হন। চোখের পলকে ঘটনাটি ঘটে যায়। বিপরীতের রাস্তায় যানজট না থাকায় মোটর সাইকেলে করে আসা দুই খুনি দ্রুতই পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই টিপুর মৃত্যু হয়। তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। একই ঘটনায় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২)।

ঘটনাস্থলের পাশেই আল-ইসলামিয়া বেকারি। বেকারির কর্মচারী সুলায়মান বলেন, হঠাৎ তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। বাইরে এসে দেখেন এক লোক দৌড়ে রাস্তার বিপরীত দিকে থাকা একটি মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে। একটি মাইক্রোবাস থেকে চিৎকার ভেসে আসছে।

জানাজা :

টিপুর বাসা খিলগাঁওয়ের বাগিচা এলাকায়। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মতিঝিল সরকারি কলোনি ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা দেওয়া হয়। এরপর বাগিচা এলাকার বাসায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে বিকাল চারটার দিকে ফেনীর গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া যায়। এ সময় টিপুর স্ত্রী সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বলেন, আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। চাঁদাবাজি করেনি। তিনি তার স্বামী হত্যার বিচার চান।

স্ত্রীর মামলা :

এদিকে, টিপু হত্যার ঘটনায় শুক্রবার তার স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘চার-পাঁচ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী মোবাইল ফোনে তার স্বামী টিপুকে হত্যার হুমকি দেয়। আমার স্বামী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডির সদস্য ছিলেন। তার মতিঝিল কাঁচাবাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট আছে। রেস্টুরেন্ট তিনি দেখাশোনা করতেন। ১০ বছর ধরে বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দলীয় কোন্দল ছিল। চার-পাঁচ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী আমার স্বামীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়।’

পুলিশের মতিঝিলি বিভাগের উপ-কমিশনার এমএ আহাদ গতকাল এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, নিহত টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি হত্যার হুমকির যে অভিযোগ করেছেন- তা পুলিশকে জানানো হয়নি। এমনকি তার স্বামীকে হত্যার হুমকির বিষয়ে থানায় পর্যন্ত কোনো জিডি করেননি। তারপরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। যে মোবাইল ফোন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল- সেটি বন্ধ আছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

ময়নাতদন্ত :

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, নিহত টিপুর গলার ডান পাশে, বুকের বাম পাশে, বুকের বাম পাশের বগলের কাছাকাছি, পেটের মধ্যে নাভির নিচে, বাম কাঁধের ওপরে, পিঠের বাম পাশের মাঝামাঝি স্থানে, পিঠের বাম পাশের কোমর বরাবর ও পিঠের ডান পাশের কোমরের ওপরসহ একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তকালে তার শরীরের ভিতর ৭টি গুলির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

র‌্যাবের ব্রিফিং :

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বেশকিছু মোটিভ পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী কাজ চলছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে ব্যক্তি মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে গুলি করেছে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। র‌্যাব ছাড়াও অন্যান্য বাহিনী কাজ করছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ২৬ মার্চ

Back to top button