ইউরোপ

সার্বভৌম রাষ্ট্রের সুযোগ হারিয়েছে ইউক্রেন, দাবি রাশিয়া

মস্কো, ২৬ মার্চ – রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সুযোগ হারিয়েছে ইউক্রেনের নেতৃত্ব।

শনিবার রুশ সংবাদমাধ্যম প্রভদা এ খবর জানায়।

মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘নিজেদের সীমানার ভেতরে থাকার মূল সুযোগ হারিয়েছে ইউক্রেন; একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ইউক্রেনের সুযোগ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে।’

গত ২৪ মার্চ তারিখের এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রুশ গণমাধ্যমটি বলছে, এ বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, দেশটির পতন হচ্ছে এবং ইউক্রেন তার সীমান্তের মধ্যে থাকছে না।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এক বিবৃতি প্রকাশ করেন। ওই বিবৃতিতে তিনি রাশিয়ার বিজয়ে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বানী করেন।

বিবৃতিতে লুকাশেঙ্কো বলেন, কিয়েভের উচিৎ ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা, যদি তারা দেশটা হারাতে না চায়।

জাপানের টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ এখনও ইউক্রেন ও রাশিয়ার সামনে রয়েছে। এ চুক্তিটি জেলেনস্কি করবেন পুতিনের সঙ্গে। যদি জেলেনস্কি এটা করতে সম্মত না হন, তখন আমার কথা বিশ^াস করুন- শিগগিরই আমরা আত্মসমর্পনের একটি চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছি।’

বলা বাহুল্য, লুকাশেঙ্কো এখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আত্মসমর্পনের বিষয়টি ইঙ্গিত করছেন। তিনি মনে করছেন, রুশ বাহিনীর হাতে শিগগিরই পতন হবে কিয়েভের।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী।

যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের শহরগুলো ঘিরে রেখেছে রুশ সামরিক বাহিনী; হামলা চলছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পাশে অবস্থান করছে রুশ বাহিনীর ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর। তারা যে কোনো সময় শহরটিতে হামলা চালাতে পারে।

রাশিয়ার গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খারকিভ, মারিওপল শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৬ মার্চ

Back to top button