কী চমক দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

ইসলামাবাদ, ২৫ মার্চ – পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চমক দেখানোর কথা বলেছেন। কিন্তু কী চমক দেখাবেন তিনি- তা নিয়ে কৌতূহুলের শেষ নেই। ইতিমধ্যে সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হাতে তিনি কিছুটা সময় পেয়েছেন। চমক যাই হোক না কেন তা এরমধ্যেই তাকে দেখাতে হবে। নতুবা গদি ছাড়তে হবে।
৮ মার্চ দেশটির বিরোধী দলগুলোর আইনপ্রণেতারা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। শুক্রবার শুরু হওয়া অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু শুনানি ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে ভোটাভুটি করা সম্ভব হয়নি। ফলে অতিরিক্ত সময় পেলেন সাবেক এই বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার। পদত্যাগ নিয়ে চাপে থাকা ইমরান খান এরমধ্যে কয়েকবারই বলেছেন যে কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি পদত্যাগ করবেন না। শেষ বল পর্যন্ত তিনি খেলতে চান। তিনি একথাও বলেছেন যে, এখনও তিনি শেষ চাল দেননি।
পাকিস্তানের র্পালামন্টেে সংখ্যাগরষ্ঠিতা ধরে রাখতে হলে ইমরান খানকে অন্তত ১৭২ জন এমপির সর্মথন পেতে হবে। এর মধ্যে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের আসন সংখ্যা ১৫৫। তার সাথে আছে কোয়ালিশন অংশীদারদের সর্মথন। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগসহ পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর মোট আসন সংখ্যা হচ্ছে ১৬৩।
পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে র্বাতা সংস্থা রয়র্টাস জানাচ্ছে , ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের শক্তিধর সামরিক বাহিনীর সুসম্পর্কে চিড় ধরেছে। যাদের সর্মথন ছাড়া যে কোন দলের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা কঠিন। যদিও ইমরান খান এবং সামরকি বাহিনী উভয়ইে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চার বছর আগে ইমরান খানের দল ক্ষমতাসীন হয়। পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের ইতিহাসে এ র্পযন্ত কোন প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পুরণ করতে পারেননি।
গত বৃহস্পতিবার ইমরান খান জানান, নিজ দল তেহরিক-ই-ইনসাফের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আগামী রোববার রাজধানী ইসলামাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে দলের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত হওয়ার ডাক দিয়েছেন। দেশবাসীকেও ওই জমায়েতে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই জমায়েতে তিনি কী ঘোষণা দেবেন সেটা জানার প্রতীক্ষায় আছেন পাকিস্তানীরা।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনও করেন ইমরান খান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো তাদের কাছে থাকা সব কার্ড খেলে ফেলেছে। তবে কোনোভাবেই আমার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সফল হবে না। আমার ট্রাম্প কার্ড হলো, আমি এখনও আমার টেবিলে কোনো কার্ডই রাখিনি।’
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ খান বলেছেন, অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে দেশ আগাম নির্বাচনের দিকে যেতে পারে। যদিও সময় অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা।
সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৫ মার্চ ২০২২









