ক্রিকেট

হার দিয়েই লিগ শুরু হল ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের

ঢাকা, ১৬ মার্চ – একা লড়াই করেছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। কিন্তু একা আর কত! দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি মোহাম্মদ হাফিজ-সৌম্য সরকার কিংবা শুভাগত হোমরা। ফল, শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হার ৪১ রানে।

বুধবার (১৬ মার্চ) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় মোহামেডান-শাইনপুকুর। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে অঙ্কনের দল ৭ উইকেটে ২৫০ রান করে শাইনপুকুর। রান তাড়া করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট হয় মোহামেডান।

রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং ধসের মুখোমুখি হয় মোহামেডান। ৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে। সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন ইমন-সোহরাওয়ার্দী শুভ। দুজনেই হাঁকান ফিফটি। ৩৮ রান করেন পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু। এ দুজনের ফিফটির সঙ্গে মিশুর ইনিংস না হলে দুইশ ছাড়ানোও কঠিন হয়ে যেত।

ওপেনিংয়ে নেমে ইমন ক্রিজে থাকেন ৩৫তম ওভার পর্যন্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ৮৮ বলে ৫৪ রান। ৮২ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ফিফটির দেখা পান এই তরুণ ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে লড়েছেন শুভ। কিন্তু পরিস্থিতি ছিল উল্টো দিকে। বল-রানের ব্যবধান অনেক। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান। ৫০ বলে পান ফিফটির দেখা।

এক ইমনের সঙ্গে দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও আরিফুল ইসলাম রানআউট হয়ে ফেরেন। সৌম্যকে ছন্দহারা দেখা গেছে ব্যাটিংয়ে, তবে আরিফুল ছিলেন সাবলীল। দ্বিধায় ভুগে সৌম্য ফেরেন ২৮ বলে ৭ রান করে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি করা আরিফুল মাঠে এসে দারুণ শুরু করেছিলেন। আলাউদ্দিন বাবুকে পয়েন্টে চার মেরে খোলেন রানের খাতা, পরের বল ডট দিয়ে আবার চার মারেন কাভারে। সিকান্দার রাজার পরের ওভারে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে রান নিতে গিয়ে হাসান মুরাদের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন তিনি।

আলাউদ্দিনকে ডিপ পয়েন্টে চার মেরে রানের খাতা খুলেছিলেন হাফিজ। পরের বলেই ধরা পড়েন ডিপ কাভারে নাঈমের হাতে। প্রথম ম্যাচেই আউট হন ৪ রানে। এ ছাড়া শুভাগতর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১০ রান।

শাইনপুকুরের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন আনিসুল ইসলাম, সিকান্দার ও আলাউদ্দিন।

এর আগে মোহামেডানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ৩৩ ওভারে ১০০ রান করেছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। কিন্তু পরের ১৭ ওভারে তুলে নেয় আরো দেড়শ রান। সৌম্য সরকারের দারুণ বোলিংয়ে শুরুটা ভালো হলেও সাজ্জাদুল হক রিপন ও আলাউদ্দিন বাবুর ঝড়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের শেষটা হয়েছে অস্বস্তিতে।

আলাউদ্দিন মাত্র ১৯ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তার ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছয় ছিল। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ৩ ওভারে ৪৪ রান করে শাইনপুকুর।

আলাউদ্দিন শেষ দিকে ঝড় তুললেও ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন রিপন। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। সিকান্দার রাজা, নাঈম হাসান ও আলাউদ্দিনের সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দেন। তার সবচেয়ে বড় ৬৯ রানের জুটি ছিল আলাউদ্দিনের সঙ্গে। ৩ চার, ১ ছয়ে ৪৭ বলে ফিফটি করেন রিপন। ৫৯ বলে সর্বোচ্চ ৭০ রান আসে তার ব্যাট থেকেই। এ ছাড়া রাকিন ৩৯ ও সিকান্দার করেন ৪২ রান।

মোহামেডানের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন সৌম্য। বোলিংয়ে সৌম্যর শুরুটা দারুণ হলেও শেষটা এলোমেলো। প্রথম স্পেলে সৌম্য ৬ ওভারে ১১ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট, ইনিংস শেষে সেটি দাঁড়ায় ৯ ওভারে ৫২। আর পাননি উইকেট। এছাড়া সালাউদ্দিন শাকিল ২টি, মোহাম্মদ হাফিজ ও শুভ নেন ১টি করে উইকেট।

অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স করে ম্যাচ সেরা হন শাইনপুকুরের আলাউদ্দিন।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১৬ মার্চ

Back to top button