জাতীয়

সাত বছরেও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক খুঁজে পায়নি বিএনপি!

বোরহান উদ্দিন

\

ঢাকা, ১৩ মার্চ – সবশেষ কাউন্সিলের পর সাত বছর চলছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির। ৫০২ সদস্যের কমিটিতে অনুমোদনের বাইরেও অতিরিক্ত ৫৩ জন জায়গা পেয়েছেন। কিন্তু এতদিনেও পূরণ হয়নি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের পদ। শুরুর দিকে এই পদ নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়টি বেমালুন ভুলে গেছেন দলের নীতিনির্ধাকরা।

পদ প্রত্যাশীদের অভিযোগ, চাইলেই যাচাই-বাছাই করে এই পদে সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে পদায়ন করা সম্ভব। আর এ নিয়ে কথা বলতে কিছুটা বিব্রত সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকরাও। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকেই এই পদে আসার অনেকটা রেওয়াজ আছে বিএনপিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় একজন সভাপতি বলেন, ‘৫শ মানুষের কমিটি হলো অথচ সম্পাদকীয় পদ ফাঁকা রাখার যুক্তি কী? এ পদের অনেক যোগ্য লোক আছে বিএনপিতে। নতুন কাউন্সিলের আগে অন্তত ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদকের পদ পূরণ করা উচিত।’ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিবসহ প্রথমে তিনজনকে নিয়োগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোট ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

ওইবছরের আগস্টে বিএনপির ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। যাতে ১৯ স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১৭ সদস্যের নাম, ৭৩ জন উপদেষ্টা, ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ৫০২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতবড় কমিটি নিয়ে তখন দলের ভেতরে-বাইরে নানা সমালোচনাও হয়েছে। তবে এতদিনে ছাত্র, যুব বিষয়ক ও দপ্তর সম্পাদকের নাম ঘোষণা না হওয়ায় এখন অনেকটা ভুলে গেছে নীতিনির্ধারকরা।

তখন এই পদগুলোতে কারা আসতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু আজও কাউকে দেয়া হয়নি। যদিও যুব সম্পাদকের পদ ফাঁকা রেখে সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মীর নেওয়াজ আলীকে আনা হয়।

অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এখনো দপ্তর সামলাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী। এ নিয়েও বিএনপিতে নানা আলোচনা আছে।
তবে সম্পাদকীয় পদ হলেও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের পদটির প্রতি সাবেক ছাত্রনেতাদের শুরু থেকেই নজর সবসময়। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এমন নেতাদের আকর্ষণের জায়গা এটি। যে কারণে পদটি পাওয়ার জন্য কেউ কেউ চেষ্টাও করেছেন।

শুরু থেকেই ছাত্রবিষয়ক পদে বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতার নাম শোনা গিয়েছিল। এই পদের জন্য তখন আলোচনায় ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনসহ আরও কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা।

এদের মধ্যে হেলালকে বিএনপির তথ্য সম্পাদকের পদ দেয়া হয়েছে। আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। টুকু একসময় সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। যে কারণে তার আর এই পদ পাওয়ায় সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে এই পদের আগ্রহীদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

খোকনের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাবস্থায় তিনি রাজপথে ছিলেন। তিনি ‘গুম’ হওয়ার তিন মাস পর উদ্ধার হলেও পরে কয়েক মাস পর তাকে আবার কারাগারে থাকতে হয়েছে। একশর বেশি মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। এর বাইরেও ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা পদের জন্য আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু দলের কোনো তৎপরতা না থাকায় তারাও অনেকটা চুপসে গেছেন।

সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে বিএনপিতে সক্রিয় আছেন এমন একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের পদে কে আসবেন তা অনেকটা নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর। তিনি যাকে এই পদে যোগ্য মনে করবেন তিনিই এই পদ পাবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদকের পদটি গুরুত্বপূর্ণ। আরও আগে এটি হওয়া দরকার ছিল। তবে নানা ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হচ্ছে এটাও বুঝতে হবে। আশা করি হয়তো হাইকমান্ড বিষয়টি ভেবে দেখবেন।’

বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদের বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কৌতূহল রয়েছে। তারাও চান স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে যেন এই পদে রাখা হয়। কারণ ছাত্রদলকে দিকনির্দেশনা দেয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের বড় ভূমিকা থাকে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস
এম এস, ১৩ মার্চ

Back to top button